দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরশাসক সেখ হাসিনার দোসর হিসেবে পরিচিত "কানু জুয়েলার্সের" মালিক সন্তোষ কানু আওয়ামিলীগের দাপট খাটিয়ে প্রভাব বিস্তার করেছেন। বিএনপির নেতা-- কর্মীদের কোন ঠাসা করতে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দিয়েছেন বিপুল অংকের টাকা। মুজিব সড়ক চৌরাস্তা মোড়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী কানু জুয়েলার্স এর সত্বাধিকার ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগের দোসর সন্তোষ কুমার কানু দলীয় রুপ চেঞ্চ করে ক্ষমতাশীল দলের সাথে আতাতে স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে বন্ধকী (সুদ) ও হুন্ডি ব্যবসাসহ নকল সোনা দিয়ে গ্রাহকদের প্রতারণায় জালে ফেলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ উঠেছে।বিএনপির নেতাকর্মীদের কোন ঠাসা করতে তাঁর অবৈধ টাকার একটা অংশ তিনি ব্যায় করেছেন তৎকালিন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পিছনে।
স্বর্ণ গ্রাহকরা সোনার গহনা বন্ধক রেখে সুদে টাকা নিলে সে টাকা সুদসহ ফেরত দিলে জমাকৃত গহনা না দিয়ে একই ডিজাইনের নকল গহনা দিয়ে গ্রাহকদের প্রতারণা করায় ঝামেলা সৃষ্টির বিষয়ে এলাকাবাসির সাথে দফারফার অভিযোগ নিত্য দিনের কান্ড।
অভিযোগে জানা যায়, ভিআইপি কাস্টমারদের সোনার ক্যাডেটে কারসাজিতেও দুর্নীতির সীমা নেই। অভিযোগে আরো জানা যায়, সিরাজগঞ্জে বসে হুন্ডির মাধ্যমে কমিশনে ভারতে টাকা পাঠিয়ে দেন। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।
স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগের ১৫ বছর শাসনামলে জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের সাথে দলীয় পরিচয়ে সখ্যতা তৈরী করে নিজ ব্যবসায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে গ্রাহকদের প্রতারণায় শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সিলিগুড়িতে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার ব্যবসার প্রসার ঘটাতে সিরাজগঞ্জ জেলা পুজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন। এ কারনে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে তার সুসম্পর্ক ছিল। শত অন্যায় করেও তিনি প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলতেন। যার কারনে সাধারন মানুষের কাছে সন্তোষ কুমার কানু ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন । ৫ই আগষ্ঠের পরেরদিন রাতের আঁধারে বোরকা পরে, তার দোকানের এক কর্মচারীর মটর বাইকের পিছনে বসে সিরাজগঞ্জ ত্যাগ করে, চলে যান আত্মগোপনে।
কিছুদিন পর শীর্ষ নেতাদের সাথে আতাত করে সিরাজগঞ্জে চলে আসেন। জুয়েলার্স ব্যবসার অন্তরালে সুদের ব্যবসা (বন্ধকী) হুন্ডির ব্যবসা সহ চোরাকারবারি নকল সোনা দিয়ে প্রতারণা ধরে রাখতে আওয়ামীলীগ এর দোসর হিসাবে সকল দলীয় প্রোগ্রামে প্রথম সারিতে অবস্থান নিতেন। নিজের দুই নাম্বারী রমরমাভাবে পরিচালনায় তার বড় ভাই রবি কানু পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের দায়িত্বে ছিলেন। স্বৈরশাসক আওয়ামীলীগের ব্যানারে থেকে দাপট ও আধিপত্য বিস্তারে জেলা, থানা পৌর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সকল নেতৃবৃন্দেকে ম্যানেজ করে অবৈধ ব্যবসায় শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর সে এখন বড় বিএনপির নেতাদের হাত ধরে একইভাবে চোরাকারবারিতে মেতে উঠেছে। তার বন্ধকী ব্যবসা নিয়ে এলাকাবাসির সাথে একাধিকবার দেন দরবারের ঘটনা ঘটে।
সন্তোষ কুমার কানু হিন্দু সম্প্রদয়ের ভয় দেখিয়ে ধরাকে সরা করতে দ্বিধাবোধ করেননি। সন্তোষ কুমার কানু তার অবৈধ ব্যবসা বৈধ করতে বড় ভাই মরহুম রবি কানুকে পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি নিযুক্ত করতে বিপুল অংকের টাকা ব্যয় করে ক্ষমতা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ করেন ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিরা। রবি কানু দলীয় পদে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সন্তোষ কুমার কানু পুঁজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি পদ দখল করে প্রশাসনিক ক্ষমতায় নিজেকে শক্তিধর হিসাবে কাউকে তোয়াক্কা করেননি। অবৈধভাবে উপার্জনের কালো টাকার দাপটে রেমিটেশনের বাহারী গহনা সাজিয়ে ভিআইপি কাস্টমার মন কেড়ে নিয়ে রমরমা ব্যবসা করে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বর্তমানে নব কৌশলে জাতিগত বিএনপির নেতাদের সহযোগীতায় ক্ষমতার অপব্যবহারে নিজেকে ক্ষমতাশীল হিসাবে চলার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে সচেতন মহলের দাবী। টাকার দাপটে স্বৈরাচার আওয়ামীগ থেকে এখন বৈষম্য বিরোধী দলের অংশীদারিত্বের দাবীদার বলে চরিত্রের রুপ নিয়েছেন।
বিএনপির নেতাকর্মীরা সন্তোষ কানু জুয়েলারি দোকান ও তার বাড়ি ভাংচুর করতে এলে। টাকার বিনিময়ে বিএনপির কিছু সিনিয়র নেতাকে ম্যানেজ করে সেদিন বাড়ি ঘর ভাংচুরের হাত থেকে রক্ষা করেন।
আত্মগোপনে থাকা এই সন্তোষ কানু হটাৎ করেই তার জুয়েলারি দোকান খোলেন। তবে অবাক করার বিষয় হলো বিএনপির নেতাকর্মীরাই তার দোকান খোলার দিন পাহাড়া দিয়ে রাখে।এতে হতবাক হন অনেকেই।
তবে পিছনের গল্প ছিল ভিন্ন। দিন যতই গড়াতে থাকে ধীরে ধীরে আসল সত্যিটা বেরিয়ে আসতে থাকে। সম্প্রতি সানোয়ার হোসেন সানুর ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাস থেকে জানা যায়, বিএনপির এক সিনিয়র নেতাকে ৩০ লাখ টাকা দিয়ে তিনি সিরাজগঞ্জে আসেন।এবং ওই নেতার ছত্রছায়ায় তিনি এখন বড় বিএনপি। তাঁর বিরুদ্ধে হয়নি কোন মামলা।
যে ব্যক্তি ৫ আগষ্টের পূর্বে নিজেই ছিলেন আওয়ামী লীগের বড় পেত আত্মা আর এখন তিনি কথায় কথায় বলে বেড়ান আওয়ামী লীগের কোন পেত আত্মার ঠাই নেই বিএনপিতে। তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে তিনি কিভাবে সক্রিয় আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি হলেন?
বিএনপির হাইকমান্ড থেকে বলা হচ্ছে যারা একদিনের জন্য আওয়ামী লীগ করেছে, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল। এমন কোন ব্যক্তিকে বিএনপিতে নেয়া যাবে না।
তাহলে সন্তোষ কুমার কানু কিভাবে বিএনপিতে আশ্রয় পেল? এ প্রশ্ন এখন সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে।
সম্প্রতি সিরাজগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আলোচিত ঘটনায়। একটি গ্রুপকে অর্থ সহযোগিতাও করেন সন্তোষ কুমার কানু। এমনটাই বলছেন অনেকেই।
শুধু কি এক নেতাকে ম্যানেজ করেই সন্তোষ কুমার কানু আওয়ামিলীগ থেকে বিএনপিতে এসেছেন? এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো না।
তাঁকে নিরাপদে সিরাজগঞ্জে ফিরিয়ে আনা, তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে সহযোগিতা করা, বিএনপির রাজনীতিতে জায়গা করে দেয়ার মত কাজগুলো হয়েছে বিপুল অংকের টাকার বিনিময়ে। আর এর নেপথ্যে রয়েছে বেশকিছু হাইব্রিড নেতারা। অচিরেই তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে............ আগামী পর্বে।








































আপনার মতামত লিখুন :