২০২৬ সালের (১৪৪৭ হিজরি) হজ মৌসুমের জন্য রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা প্রদান শুরু করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মূলত হজের প্রস্তুতিকে আরও সুশৃঙ্খল করতে এবং হজযাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে তৈরি করা বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই আগাম ভিসা ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর হজ কার্যালয়গুলো আগেভাগেই তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করার সুযোগ পাবে।
মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের হজের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল গত বছরের ৮ জুন থেকেই। সেই সময় থেকেই বিভিন্ন দেশের হজ অফিসগুলোকে পরিকল্পনার প্রাথমিক নথি ও দিকনির্দেশনা পাঠানো হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘নুসুক মাসার’-এর মাধ্যমে পবিত্র মক্কা ও মদিনার তাবুসহ অন্যান্য আবাসন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। আধুনিক এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে অফিসগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের কাজ এগিয়ে নিতে পারছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
নির্ধারিত প্রস্তুতি সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি (যা ২০২৫ সালের আগস্টের শেষ দিকে হতে পারে) থেকে হজযাত্রীদের আবাসন এবং অন্যান্য মৌলিক সেবার আনুষ্ঠানিক চুক্তি শুরু হবে।
সময়ের অনেক আগে থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু করার প্রধান উদ্দেশ্য হলো হজযাত্রীদের জন্য আরামদায়ক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। মন্ত্রণালয় মনে করছে, ভিসা ও আবাসনের প্রক্রিয়াগুলো আগেভাগে সম্পন্ন হলে শেষ সময়ের হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য যে, সৌদি আরব প্রতি বছরই হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ফলে এখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে হজ কার্যালয়গুলো তাদের হজযাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বুকিং করতে পারছে।
২০২৬ সালের হজ পালন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও স্বাস্থ্যগত শর্তাবলিও পর্যায়ক্রমে জানানো হবে। আগাম এই ভিসা কার্যক্রম শুরুর ফলে বিশ্বজুড়ে হজযাত্রীদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।



































আপনার মতামত লিখুন :