Swadesh Chitro
  • ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
banner

আশুরার তাজিয়া মিছিলে ১৫ হাজার মানুষকে হত্যাচেষ্টা


FavIcon
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
আশুরার তাজিয়া মিছিলে ১৫ হাজার মানুষকে হত্যাচেষ্টা
অভিযুক্ত ফাইয়াজ প্রেমজি।

ভারতের বাণিজ্যিক নগরী মুম্বাইয়ে পবিত্র আশুরার তাজিয়া মিছিলে অংশ নেওয়া হাজার হাজার মানুষকে বিষাক্ত ক্যাপসুল খাইয়ে একযোগে হত্যা করার এক ভয়াবহ পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে দেশটির পুলিশ।

শুক্রবার (২৬ জুন) তাজিয়া মিছিলের ভেতরে সাধারণ মানুষের মাঝে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিলি করার সময় ফাইয়াজ প্রেমজি নামের এক যুবককে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আটক ওই যুবক স্বীকার করে যে মিছিলে উপস্থিত অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে বিষপ্রয়োগে মেরে ফেলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল তার।

মুম্বাই পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে গত শুক্রবার তাজিয়া মিছিল চলাকালীন ফাইয়াজের দেওয়া ওই ক্যাপসুল সেবন করে মুহূর্তের মধ্যেই অন্তত ডজনখানেক মানুষ মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। 

পরবর্তীতে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা যায় যে ওই ক্যাপসুলগুলোর ভেতরে জিঙ্ক ফসফাইড নামক অত্যন্ত প্রাণঘাতী রাসায়নিকের উপস্থিতি ছিল। সাধারণত এই রাসায়নিকটি ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আটক ফাইয়াজকে শনিবার স্থানীয় আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্তকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রেয়ে রোডের রেহমতাবাদ কবরস্থানের নিকটবর্তী আশুরার মূল শোভাযাত্রায় ফাইয়াজ ওই বিষাক্ত ক্যাপসুলগুলো বিলি করছিল। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সে ওই মরণঘাতী ক্যাপসুলগুলোকে বিভিন্ন ধরনের ব্যথানাশক এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিকারী ওষুধ হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। 

ফাইয়াজের এই ধোঁকাবাজিতে পড়ে অন্তত ১১ জন মানুষ সেই ক্যাপসুল সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে মারাত্মক পেটের ব্যথা ও বমির সমস্যায় আক্রান্ত হন। তাদের সবাইকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও বর্তমানে তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

মুম্বাই পুলিশের উপকমিশনার জয়ন্ত মীনা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুলিশ অভিযুক্ত ফাইয়াজের কাছ থেকে অন্তত ১৪ হাজার ৯০০টি বিষাক্ত ক্যাপসুল জব্দ করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আটক করার পূর্বেই সে মিছিলে বেশ কিছু ক্যাপসুল বিলি করতে সক্ষম হয়েছিল। 

পুলিশ আরও জানতে পেরেছে যে এই চক্রান্তকে আরও বড় আকার দিতে ফাইয়াজ ইতিমধ্যে বাজার থেকে আরও ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল এবং ৫০ কেজি ফসফরাস কেনার জন্য অগ্রিম অর্ডার দিয়ে রেখেছিল।

মুম্বাইয়ের বাইকুল্লা থানা পুলিশ আরও জানিয়েছে যে ওই দিন তাজিয়া মিছিলে অংশ নেওয়া তিন নারী স্বেচ্ছাসেবকের তৎপরতার কারণেই মূলত এই ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ওই তিন নারীর একজন প্রথমে ফাইয়াজকে সন্দেহজনকভাবে ওষুধ বিতরণ করতে দেখেন এবং দ্রুত তাকে বাধা দিয়ে স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন। একই সঙ্গে তারা মুহূর্তের মধ্যে লাউডস্পিকারে মাইকিং করে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া হাজার হাজার মানুষকে ওই বিতরণ করা ক্যাপসুল না খাওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধী ফাইয়াজ প্রেমজি সরাসরি স্বীকার করে বলেন, ‘আমি অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে হত্যা করতে চেয়েছিলাম।’ এই চক্রান্তের কারণে তার বিরুদ্ধে বাইকুল্লা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৩ ধারায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা রুজু করা হয়েছে, যা বিষ বা অনুরূপ উপায়ে মানুষের ক্ষতি করার অপরাধে শাস্তিযোগ্য। আটক এই মূল পরিকল্পনাকারীর পেছনে কোনো নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে জিঙ্ক ফসফাইড মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক ও মারাত্মক একটি বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। এটি কোনোভাবে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে তা পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে তীব্র বিক্রিয়া ঘটিয়ে ফসফিন নামক এক ধরনের অত্যন্ত প্রাণঘাতী বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন করে। এই ক্ষতিকর গ্যাসটি সরাসরি মানুষের হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি এবং মস্তিষ্ককে চিরতরে বিকল বা ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলে। এই বিষের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এর সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে কেবল লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমেই বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়।

সূত্র: এনডিটিভি

Banner
Side banner
Side banner