Swadesh Chitro
  • ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
banner

মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে ৩ লাখ টাকা, শার্শা উপজেলার আসাদের বিরুদ্ধে আদালতে ফের মামলা


FavIcon
মোঃ নজরুল ইসলাম,(নিজস্ব প্রতিবেদক)যশোর:
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে ৩ লাখ টাকা, শার্শা উপজেলার আসাদের বিরুদ্ধে আদালতে ফের মামলা
মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে ৩ লাখ টাকা, শার্শা উপজেলার আসাদের বিরুদ্ধে আদালতে ফের মামলা

যশোরে শার্শা উপজেলার মানবাধিকার কর্মী পরিচয়ে চলা আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে তিন লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুবিচার চেয়ে ঝিনাইদহের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও শৈলকুপা আমলি আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি।

অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান আসাদ যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সাতমাইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ৮ নম্বর বাগআঁচড়া ইউনিয়ন শাখা উলামা লীগের সাবেক সভাপতি আ.ফ.ম. নিছার আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে যশোর ও ঝিনাইদহের আদালতে তিনটি মামলা চলমান এবং শার্শা থানায় চাঁদাবাজি ও মারধরসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।নতুন মামলার সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার আসাননগর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেনকে মালয়েশিয়ায় বৈধ ভিসায় ভালো বেতনের চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন আসাদুজ্জামান আসাদ। বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে আসাদের এ বিষয়ে চুক্তি হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ২০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি স্বাক্ষরের পর জাহাঙ্গীর প্রথম ধাপে আসাদকে নগদ তিন লাখ টাকা দেন। সাক্ষীদের উপস্থিতিতেই আসাদ ওই টাকা গ্রহণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, মালয়েশিয়া যাওয়ার ফ্লাইটের দিন ১ এপ্রিল জাহাঙ্গীরকে বাকি দেড় লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। আর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে মালয়েশিয়ায় পাঠাতে ব্যর্থ হলে ১ মে’র মধ্যে তিন লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার শর্ত ছিল।তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাহাঙ্গীরকে মালয়েশিয়ায় পাঠাতে না পারায় তিনি আসাদের কাছে দেওয়া তিন লাখ টাকা ফেরত চান। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা ফেরত না দিয়ে আসাদ বিভিন্ন ধরনের তালবাহানা করতে থাকেন।পরে সুবিচার পেতে জাহাঙ্গীর হোসেন ঝিনাইদহের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও শৈলকুপা আমলি আদালতে মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।


মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ অনুযায়ী, আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আরও কয়েকটি অভিযোগ উঠেছে।
১. চাঁদাবাজির অভিযোগ: আম ব্যবসায়ী আবু সিদ্দিক অভিযোগ করেন, তার কাছ থেকে জোরপূর্বক পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

২. মারধরের অভিযোগ: আঞ্জুয়ারা খাতুন নামে এক নারী পাওনা টাকা চাইতে গেলে আসাদ তাকে মারধর ও রক্তাক্ত জখম করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় আঞ্জুয়ারা শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ৩. আদালতে মামলা: পরে একই ঘটনায় সুবিচার চেয়ে আঞ্জুয়ারা যশোরের আদালতে মামলা করেন। মামলাটিতে আসাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় বলে জানা গেছে। বর্তমানে ওই মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন।

৪. দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ: শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর জন্য তিনি আসাদুজ্জামান আসাদকে ১০ লাখ টাকা দেন। পরে ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর পরিবর্তে আসাদ নানা ধরনের তালবাহানা শুরু করেন বলে অভিযোগ। টাকা ফেরত পেতে শরিফুল যশোরের আদালতে মামলা করেন। ৫. চাঁদা দাবির অভিযোগ: শার্শার বাগআঁচড়া বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী জামাল বাবুর্চির অভিযোগ, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের অভিযোগ তুলে আসাদ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ ঘটনায় জামাল বাবুর্চি শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। 

নজরুল ইসলাম নিজস্ব প্রতিবেদক

Banner
Side banner

সারাদেশ বিভাগের আরো খবর

Small Banner
Side banner