২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ (শেষ বত্রিশ)-এর ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হেরে স্তব্ধ হয়ে গেছে জাপানের বিশ্বকাপ স্বপ্ন। ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ম্যাচ হারলেও, রেফারির শেষ বাঁশির পর হিউস্টনের মাঠে যে আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হলো, তা পুরো ফুটবল বিশ্বের মন জয় করে নিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। জানা যায়, ম্যাচ শেষে জাপানের কোচ হাজিমে মরিয়াসু মাঠে খেলোয়াড়দের একত্র করেন, এরপর সবার সামনে মাথা নত করে জাপানের জনগণের কাছে ক্ষমা চান।
মরিয়াসু বলেন, 'আমি গভীরভাবে দুঃখিত যে আমরা সবাইকে এই জয় উপহার দিতে পারিনি। একজন কোচ হিসেবে আমি মনে করি এর দায়িত্ব আমার, এবং আমি সবার কাছে ক্ষমা চাই।
তিনি আরও বলেন, 'হিউস্টনের স্টেডিয়ামে এসে আমাদের সমর্থন করা অসংখ্য জাপানি সমর্থককে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। শুধু তারাই নন, আমি জানি জাপান এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক মানুষ গভীর রাত জেগে টেলিভিশন বা ইন্টারনেটে আমাদের খেলা দেখেছেন এবং আমাদের জন্য উৎসাহ দিয়েছেন।'
প্রথমার্ধে কাইশু সানোর দুর্দান্ত গোলে লিড নিয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছিল 'ব্লু সামুরাই'রা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরোর দুর্দান্ত হেডে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে (যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে)গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির নাটকীয় গোল জাপানিদের হৃদয় ভেঙে দেয়। ম্যাচ শেষের চূড়ান্ত বাঁশি বাজার সাথে সাথেই কান্নায় ভেঙে পড়েন জাপানি ফুটবলাররা।
তবে মাঠ ছাড়ার আগে কোচ হাজিমে মোরিয়াসু পিচের মাঝখানে সব খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি বৃত্ত তৈরি করেন এবং আবেগঘন এক বার্তা দেন। এ
বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সম্প্রচারে দেখা যায়, মোরিয়াসু খেলোয়াড়দের উদ্দেশে কিছু কথা বলেন। বক্তব্য শেষে তিনি মাথা নত করলে খেলোয়াড়রা করতালির মাধ্যমে তাকে সম্মান জানান। ২০১৮ বিশ্বকাপের পর থেকে টানা আট বছর ধরে তিনি জাপান জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করছেন।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘এখানেই আমাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে গেল-এটা সত্যিই ভীষণ হতাশার। তবে খেলোয়াড়রা এই ম্যাচে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছে। এখানে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি দিন তারা কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটিকে গুরুত্ব দিয়েছে। কোচিং স্টাফ ও সাপোর্ট স্টাফও অসাধারণ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছে। আমরা আমাদের সামর্থ্যের সবকিছুই করেছি। যদিও এখন আমরা খুবই হতাশ, তবুও এই ফল মেনে নিয়ে এটিকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার প্রেরণায় পরিণত করতে চাই।’
এই বিশ্বকাপে জাপান তাদের অভিযান শেষ করেছে একটি জয়, দুটি ড্র এবং একটি হার নিয়ে। ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপের কোনো নকআউট ম্যাচ জিততে পারেনি জাপান। অন্যদিকে ব্রাজিল এখন শেষ ষোলোর প্রতিপক্ষ জানার অপেক্ষায়। তাদের প্রতিপক্ষ হবে আইভরি কোস্ট ও নরওয়ের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল।






































আপনার মতামত লিখুন :