Swadesh Chitro
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩
banner

পদ্মা সেতুর পিলারের পাশে মাটি অপসারণে সেতুর ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
পদ্মা সেতুর পিলারের পাশে মাটি অপসারণে সেতুর ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী
সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন, সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

পদ্মা সেতুর পিলারের কাছ থেকে মাটি অপসারণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উদ্বেগ ও আলোচনা ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন, সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, অপসারণ করা হচ্ছে নির্মাণকাজের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে ভরাট করা মাটি, যা সেতুর মূল কাঠামোর অংশ নয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সংলাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সেতুমন্ত্রী। 

তিনি জানান, পদ্মা সেতুর পিলারের কাছে মাটি অপসারণের বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেও খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের মতামত অনুযায়ী, এ মাটি অপসারণে সেতুর কোনো ঝুঁকি নেই।

মন্ত্রী বলেন, ‘যে মাটি সরানো হচ্ছে, তা সেতুর মূল কাঠামোর অংশে নয়। নির্মাণকাজ পরিচালনার সুবিধার জন্য নদীর দুই তীরের কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। প্রকল্প শেষ হওয়ার পরই সেগুলো সরিয়ে ফেলার কথা ছিল।

তিনি জানান, ভারী যন্ত্রপাতি, নির্মাণসামগ্রী ও যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে বড় অবকাঠামো প্রকল্পে এ ধরনের অস্থায়ী ভরাট বা রাস্তা তৈরি করা হয়ে থাকে। পদ্মা সেতু নির্মাণের সময়ও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ঠিকাদারি চুক্তির আওতায় ভরাট করা মাটি অপসারণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এ জন্য বরাদ্দও রাখা হয়েছিল। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সময়মতো কাজটি সম্পন্ন না করায় কয়েক বছর ধরে পড়ে থাকা মাটিতে ঘাস জন্মেছে এবং তা স্বাভাবিক ভূমির মতো দেখাচ্ছে।

তার ভাষায়, ‘এখন মাটি অপসারণ শুরু হওয়ায় অনেকের মনে হচ্ছে পিলারের গোড়া থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবে সেতুর পাইল বা মূল কাঠামোর সঙ্গে এ মাটির কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুযায়ী নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নাব্যতা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এ মাটি অপসারণ প্রয়োজন।

সংলাপে রাজধানীর বাস কাউন্টার ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সিটি করপোরেশনকে আধুনিক অপেক্ষাকক্ষ, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি ও উন্নত টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে ঢাকার বাস টার্মিনালগুলো শহরের বাইরে স্থানান্তর করা হবে। মহাখালী টার্মিনালের জন্য উত্তরা সংলগ্ন এলাকায় জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে এবং গাবতলী টার্মিনালের জন্য ৩০০ ফুট এলাকায় ডিপো উন্নয়নের কাজ চলছে।

একই সঙ্গে রুটভিত্তিক কোম্পানি ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে রাজধানীর বাস ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। তার মতে, একই রুটে অসংখ্য ব্যক্তি মালিকানাধীন বাস চলাচল করায় অনিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা ও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, মেট্রোরেল, রেল, বাস ও এক্সপ্রেসওয়েকে সমন্বিত করে একটি মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি যানজট কমাতে ঢাকাকেন্দ্রিক কমিউটার ট্রেন নেটওয়ার্কও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

Banner
Side banner
Side banner