পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের স্বাস্থ্যের আশঙ্কাজনক অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙুলীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট কিংবদন্তিরা। দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে কারাগারে বন্দি থাকা এই নেতার উন্নত চিকিৎসার দাবিতে বর্তমানে পাকিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে।
দেশটির গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, কারান্তরীণ অবস্থায় ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে এবং ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররা তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সৌরভ গাঙুলী সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি আশা করি তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে এবং তিনি সঠিক চিকিৎসা পাবেন।’ তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, ইমরান খান অধিনায়ক এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাকিস্তানকে বিশ্ব মানচিত্রে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
তাই তাকে যথাযথ দেখভাল করা এবং প্রাপ্য সম্মান দেওয়া পাকিস্তান সরকারের দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন। গাঙুলীর এই মন্তব্যের আগে ভারতের আরও দুই কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার ও কপিল দেবও একই ধরণের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ জানিয়েছে, ইমরান খানের উন্নত চিকিৎসা ও মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সরকারের কাছে এক যৌথ আবেদন জমা দিয়েছেন বিশ্বের ১৬ জন সাবেক অধিনায়ক। ওই আবেদনে তারা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন যেন ইমরান খান তার পছন্দমতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে ‘অবিলম্বে, পর্যাপ্ত এবং ধারাবাহিক চিকিৎসা’ পাওয়ার সুযোগ পান।
বিশেষ করে হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার দৃষ্টিশক্তির যে অবনতি হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তারা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি মর্যাদাপূর্ণ কারাবাসের পরিবেশ এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের নিশ্চয়তা চেয়েছেন।
এই মানবিক আবেদনে স্বাক্ষরকারী কিংবদন্তিদের তালিকায় রয়েছেন গ্রেগ চ্যাপেল, মাইকেল আথারটন, অ্যালান বোর্ডার, মাইকেল ব্রেয়ারলে, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্দা ক্লার্ক, ডেভিস গোয়ার, কিম হিউজেস, নাসের হুসেইন, ক্লাইভ লয়েড, স্টিভ ওয়াহ এবং জন রাইট।
তারা স্পষ্ট করেছেন, এই আবেদনটি কোনো আইনি প্রক্রিয়ার বিরোধিতা নয় বরং নিখাদ ক্রীড়াসুলভ মানসিকতা ও সাধারণ মানবতার জায়গা থেকে করা হয়েছে। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের আইনি ও মানবিক অধিকার রক্ষায় তারা ঐক্যবদ্ধভাবে সরব হয়েছেন। পাকিস্তান সরকার বিশ্ববরেণ্য এই ক্রিকেটারদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।




























আপনার মতামত লিখুন :