Swadesh Chitro
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
banner

চীনের পর এবার তাইওয়ানের সঙ্গে আলোচনা পথে ট্রাম্প


FavIcon
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
চীনের পর এবার তাইওয়ানের সঙ্গে আলোচনা পথে ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই।

দীর্ঘ ৪৭ বছরের আন্তর্জাতিক প্রোটোকল ভেঙে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি ফোনে আলোচনা করতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই। 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাইওয়ান প্রণালিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করতে পারলে তাইওয়ানের নেতা অত্যন্ত খুশি হবেন।

এর আগে বুধবার (২০ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। হোয়াইট হাউস যখন তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের একটি বিশাল অস্ত্র বিক্রির চুক্তি অনুমোদন করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো। গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠক শেষ করার পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন ট্রাম্প।

কূটনৈতিক ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের পরিবর্তে চীনের বেইজিং সরকারকে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত দুই দেশের কোনো প্রধান নেতা সরাসরি কথা বলেননি। চীন বরাবরই স্বশাসিত তাইওয়ানকে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। ফলে এই সম্ভাব্য ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেইজিংকে চরম ক্ষুব্ধ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে বৈঠকের পর ট্রাম্প যখন প্রথমবার লাই চিং-তে’র নাম উল্লেখ করেছিলেন, তখন অনেকেই এটিকে মুখের ভুল মনে করেছিলেন। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে এটি কোনো ভুল ছিল না। তিনি সাংবাদিকদের স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলব। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি। গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আমার চমৎকার বৈঠক হয়েছে। আমরা তাইওয়ান সমস্যাটি নিয়ে এক সঙ্গে কাজ করব।’

এদিকে বেইজিং সফর শেষ করার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তাইওয়ানের কাছে নতুন অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় একটি বড় দর কষাকষির ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও তাইওয়ানের সঙ্গে আমেরিকার কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তবুও ১৯৭৯ সালের ‘তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট’ আইনের অধীনে দ্বীপটিকে নিজস্ব আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে আইনিভাবে বাধ্য রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

আমেরিকার এই সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাইওয়ানের বর্তমান সরকার বেশ সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। তাইওয়ানের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হচ্ছে যে তাইওয়ান প্রশ্নে মার্কিন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং ট্রাম্প চীনের কাছে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু বলেন, ‘যেহেতু তাইওয়ানের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে, তাই আমেরিকার কাছ থেকে আমাদের প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র ক্রয়ের বিষয়ে আমরা সতর্কভাবে আশাবাদী।’

তাইওয়ান মূলত সম্ভাব্য চীনা সামরিক আক্রমণ প্রতিহত করতে মার্কিন রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে থাকে। এই কারণে মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোতে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি করার জন্য সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানের ওপর তীব্র আন্তর্জাতিক চাপও রয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালে নিজের প্রথম নির্বাচনী জয়ের পর তৎকালীন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানের তৎকালীন প্রেসিডেন্টের একটি শুভেচ্ছা ফোনালাপ গ্রহণ করেছিলেন, যা বেইজিংকে চরম ক্ষুব্ধ করেছিল। সূত্র: আল জাজিরা

Banner
Side banner
Side banner