Swadesh Chitro
  • ঢাকা বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
banner

ইরানে নতুন ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরুর ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের


FavIcon
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ১১:২২ এএম
ইরানে নতুন ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরুর ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানে নতুন ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরুর ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যদি কোনো কারণে ব্যর্থ হয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসন ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ নামে নতুন এক বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মঙ্গলবার (১২ মে) এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নীতিনির্ধারকরা তাদের পূর্ববর্তী সামরিক প্রচারণার নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিবর্তন করে নতুন এই শিরোনাম নিয়ে আলোচনা করছেন। যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বড় আকারের যুদ্ধ শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন, তবে এই নতুন নামেই অভিযানটি পরিচালিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়া এবং বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় ইরানের সঙ্গে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, নতুন অভিযানের নাম ব্যবহারের মাধ্যমে হোয়াইট হাউস কৌশলগত সুবিধা নিতে পারবে। 

এর ফলে তারা দাবি করতে পারবে, এটি ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’-এর আওতায় সম্পূর্ণ আলাদা একটি সামরিক অভিযান। উল্লেখ্য, এই আইন অনুযায়ী কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট কতদিন সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারবেন, তার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গত মাসে শত্রুতা বন্ধে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমাপ্তি ঘটেছে। তবে পেন্টাগন নতুন অভিযানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। 

বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটছে না, কারণ তেহরান পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ‘ন্যূনতম গ্যারান্টি’ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ ফেরত, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি।

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক ইরানের প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করার পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যা ইরান একতরফা বলে প্রত্যাখ্যান করে। 

পাল্টা জবাবে ইরান যে প্রস্তাব দেয়, ওয়াশিংটন সেটিকেও গ্রহণ করেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে নতুন কোনো পথ এখনও দৃশ্যমান হচ্ছে না। এমতাবস্থায় ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’-এর ইঙ্গিত যুদ্ধের দামামাকে নতুন করে উসকে দিচ্ছে।

 

Banner
Side banner
Side banner