Swadesh Chitro
  • ঢাকা সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
banner

ভারতে প্রথমবার ‘জিহাদি ড্রাগ’ ক্যাপ্টাগন উদ্ধার, নেপথ্যে কারা


FavIcon
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
ভারতে প্রথমবার ‘জিহাদি ড্রাগ’ ক্যাপ্টাগন উদ্ধার, নেপথ্যে কারা
১৮২ কোটি টাকা মূল্যের এই মাদক জব্দ করা হয়

ভারতে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের এক চালানে জিহাদি ড্রাগ বা গরিবের কোকেন হিসেবে পরিচিত মাদক ‘ক্যাপ্টাগন’ জব্দ করা হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রোববার (১৭ মে) দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

জিহাদি ড্রাগ কী?

জিহাদি ড্রাগ বা ক্যাপ্টাগন মূলত একটি অত্যন্ত আসক্তিনির্ভর উত্তেজক মাদক, যা সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে বারবার আলোচনায় এসেছে। সিরীয় গৃহযুদ্ধের সময় সশস্ত্র ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্যরা দীর্ঘ সময় জেগে থাকতে, ভয় কমাতে এবং সক্রিয় থাকতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করতো। এই কারণেই মাদকটি বিশ্বজুড়ে ‘জিহাদি ড্রাগ’ হিসেবে পরিচিতি পায়। এছাড়া উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় একে গরিবের কোকেনও বলা হয়।

প্রতিবেদনে অমিত শাহ জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন রেজপিল’-এর আওতায় গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দর এবং দিল্লির নেব সরাই এলাকা থেকে ১৮২ কোটি টাকা মূল্যের এই মাদক জব্দ করা হয়েছে। 

জব্দকৃত এই মাদকের চালানটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল উল্লেখ করে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনায় একজন সিরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেন, মোদি সরকার মাদক-মুক্ত ভারত গড়তে বদ্ধপরিকর। আমাদের সংস্থাগুলো প্রথমবারের মতো তথাকথিত ‘জিহাদি ড্রাগ’ ক্যাপ্টাগন জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই বিপুল পরিমাণ মাদক সিরিয়া থেকে আনা হয়েছিল এবং ভারতের মাটি ব্যবহার করে তা সৌদি আরব-সহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। কন্টেনার এবং চায়ের প্যাকেটের ভিতরে এই মাদক লুকিয়ে পাচার করা হচ্ছিল। 

তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দর এবং দিল্লির নেব সরাই এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে মোট ২২৭.৭ কেজি ওজনের এই মাদক উদ্ধার করা হয়।

গোয়েন্দাদের ধারণা, এই চালানটি উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের আবহে সেখানে লড়াইরত যোদ্ধাদের ব্যবহারের জন্য নেওয়া হতে পারতো।

জানা যায়, মূলত ১৯৬০-এর দশকে মনোযোগের অভাব (অ্যাটেনশন ডিসঅর্ডার) ও নার্কোলেপ্সির চিকিৎসার জন্য ‘ফেনিথাইলাইন’ নামে তৈরি করা হয়েছিল ক্যাপ্টাগন। তবে ভয়াবহ আসক্তির কারণে ৮০-এর দশকে অনেক দেশ এটি নিষিদ্ধ করে। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘ একে সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্স কনভেনশনে এর ব্যবহার সীমিত করে দেয়।

বর্তমানে কালোবাজারে যে ক্যাপ্টাগন পাওয়া যায়, তা আদি রূপের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক। কেননা ল্যাবরেটরিতে তৈরি এই মাদকে অ্যাম্ফিটামিন, ক্যাফেইন এবং মেথামফেটামিনসহ নানা সিন্থেটিক রাসায়নিকের মিশ্রণ থাকে।

Banner
Side banner
Side banner