Swadesh Chitro
  • ঢাকা শনিবার, ০২ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩
banner

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ বিদ্যুতের ভেলকিতে বিপর্যস্ত হাজারো গ্রাহক


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ বিদ্যুতের ভেলকিতে বিপর্যস্ত হাজারো গ্রাহক
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ বিদ্যুতের ভেলকিতে বিপর্যস্ত হাজারো গ্রাহক

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে নাকাল এ এলাকার হাজার হাজার গ্রাহক। বিদ্যুৎ বিড়ম্বনায় চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের সঙ্গে বলে জানা যায়, বর্তমানে বিদ্যুতের লোডশেডিং মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দিন রাতে অন্তত ১০-১২ বার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ  করেছেন তারা। সন্ধ্যার পর লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সংকটে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। এর প্রভাব পড়েছে ব্যবসা বাণিজ্যেও। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকা এই এলাকার শিক্ষার্থীদের জ্বালাতে হয় মোমবাতি। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় চরম বিঘ্ন ঘটছে। গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিড়ম্বনায় গ্রাহক ভোগান্তি পৌঁচেছে চরমে।

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের স্থানীয় গ্রাহক জসিম উদ্দিন বলেন, গত একমাস ধরে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে নাকাল এ এলাকার বাসিন্দারা। দিনে অথবা রাতে লোডশেডিংয়ের কোনো শিডিউল নেই। যখন তখন বিদ্যুৎ চল যায়। ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা যাওয়ায় করায় টিভি-ফ্রিজসহ ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পোল্ট্রি ফার্মের খামারিরা মুরগি নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় স্কুল কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, রেহাই পাচ্ছেন না শিশুরাও।

এসএসসি পরীক্ষার্থী জারিন তাসনীম বলেন, এ এলাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিং নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। দিনে রাতে মিলে অন্তত ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। রাতের বেলায় লোডশেডিং আরও প্রকট আকার ধারণ করে। সন্ধ্যার পর প্রায় ২/৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করে লেখাপড়ায় চরম বিঘ্ন ঘটার কথা জানান এই পরীক্ষার্থী। চলমান এসএসসি পরীক্ষায় তীব্র গরম উপেক্ষা করে সন্ধ্যায় চার্জার লাইট অথবা মোমবাতির আলোতে লেখাপড়ায় অসুবিধা হয়। 

শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সময়টুকু নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান এই শিক্ষার্থী।

চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ যথেষ্ট কম থাকায় উপজেলার সর্বত্রই লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করেছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বেড়ে গেছে। অপ্রয়োজনে বিদ্যুতের ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য গ্রাহকদের প্রতি অনুরোধ জানান এই কর্মকর্তা।  কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৪ মনোহরগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) এ.কে.এম আজাদ জানান, মনোহরগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুতের বর্তমান চাহিদা ২৫ মেগাওয়াট (পিক আওয়ার) কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াংকা চক্রবর্তী বলেন, সম্প্রতি বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়েছে। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালে ইনডোর ও আউটডোর পরিচালনায় চিকিৎসকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বিশেষ করে রাতে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারনে ভর্তি থাকা রোগীরা অসুবিধায় পড়েন। মোমবাতি অথবা মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে চালাতে হয় সেবা কার্যক্রম।

Banner
Side banner

সারাদেশ বিভাগের আরো খবর

Small Banner
Side banner