Swadesh Chitro
  • ঢাকা শনিবার, ০২ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩
banner

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ভীত দক্ষিণ কোরিয়া


FavIcon
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ভীত দক্ষিণ কোরিয়া
একের পর এক অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক কর্মসূচিকে বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে এর বিরুদ্ধে দ্রুত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইয়নহাপ নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি বিষয়ক এক সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়ং ইয়েন-দু এই দাবি উত্থাপন করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, এনপিটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়ে পিয়ংইয়ং যেভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের বিকাশ ঘটিয়ে চলেছে, তা বর্তমান বিশ্বের জন্য একটি অনন্য এবং অত্যন্ত জটিল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জিয়ং ইয়েন-দু তার বক্তব্যে বলেন, গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়া বা উত্তর কোরিয়া হলো একমাত্র দেশ যারা এনপিটি কাঠামোর সুবিধা ভোগ করার পর সেখান থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং প্রকাশ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে। 

এই আচরণ বিশ্বজুড়ে অস্ত্র বিস্তার রোধে গৃহীত নীতিমালার ওপর বড় ধরনের আঘাত বলে তিনি মন্তব্য করেন। পিয়ংইয়ংয়ের এই একগুঁয়েমি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়াকে এই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া উচিত যে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কেবল এই চুক্তির কাঠামোতে ফিরে আসার ওপরই নির্ভর করছে।Thumbnail Toshif Hasan  (4)

পারমাণবিক উত্তেজনার এই প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। জিয়ং ইয়েন-দু রাশিয়াকে উদ্দেশ্য করে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান। 

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দেশ দুটির এই ঘনিষ্ঠতা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনাগুলোকে খাটো করছে এবং বৃহত্তর পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া মনে করে, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে মস্কোর উচিত আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং পিয়ংইয়ংকে সহযোগিতা করা থেকে বিরত থাকা।Thumbnail Toshif Hasan  (6)

উল্লেখ্য, ১৯৭০ সাল থেকে কার্যকর হওয়া এনপিটি চুক্তিটি বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারের প্রসারে প্রধান আন্তর্জাতিক দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এই চুক্তির কার্যকারিতা ও দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি পালনের বিষয়টি পর্যালোচনা করতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

এবারের সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার এই জোরালো অবস্থান উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে বিশ্ব রাজনীতির নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অভিলাষ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এশীয় অঞ্চলে এক ভয়াবহ সামরিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Banner
Side banner
Side banner