Swadesh Chitro
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
banner

ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮৪ বছরের বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার


FavIcon
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮৪ বছরের বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮৪ বছর বয়সী পলিনা পোবি নামের এক বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঘটনার চতুর্থ দিনে স্বজনরা অবশেষে তাকে খুঁজে পান। বৃহস্পতিবার দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এর আগে, গত ১৫ আগস্ট সকালে দেশটির ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানা এই ভয়াবহ দুর্যোগে অন্তত ৭৩ জন নিহত হন। একইসঙ্গে এসময় ৯০০ জনেরও বেশি আহত হন। পাশাপাশি প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

জানা যায়, ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে নিতুংলিয়া গ্রামের রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সেখানেই পলিনা পোবি বাঁশের তৈরি ধসে পড়া ঘরের নিচে আটকা পড়েন। প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ায় নড়াচড়া বা কথা বলতে পারছিলেন না তিনি। ফলে কয়েক দিন ধরে খাবার ও পানি ছাড়া আটকে থাকার কারণে তিনি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন।

সিক্কা রিজেন্সি পুলিশের কর্মকর্তা বামবাং সুপেনো স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, পলিনা পোবিকে নিরাপদে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। 

স্থানীয় আরেক কর্মকর্তা রুডলফুস রিবা বলেন, ‘তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ায় নড়াচড়া করতে বা কথা বলতে পারছিলেন না। এ কারণে চতুর্থ দিন পর্যন্ত তার পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে পাননি। তিনি সুস্থ আছেন। কোনো আঘাতও পাননি। শুধু কয়েক দিন কিছু খাওয়া বা পান না করায় কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। ঘটনাটি অবাস্তব মনে হচ্ছে, প্রায় অলৌকিক।

এদিকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লোরেস দ্বীপে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে শুরু করেছে। মুদি দোকান, পেট্রল স্টেশনসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আবার খুলতে শুরু করেছে। তবে এখনো রাস্তাজুড়ে ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে। সম্ভাব্য হতাহতদের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযানও চলছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খাবার, তাঁবু, আশ্রয়কেন্দ্রের সরঞ্জাম ও সাধারণ মানুষের দেওয়া সহায়তাসহ মোট ৩৯৮ টন ত্রাণ পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, শনিবারের পর থেকে এ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি অনুকম্পন বা আফটারশক রেকর্ড করা হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাস্তুচ্যুত এই মানুষগুলো কেবল শারীরিকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও চরম বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

উল্লেখ্য, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ থাকা ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয় বাসিন্দাদের। 

Banner
Side banner
Side banner