Swadesh Chitro
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
banner

সভ্যতার এই শহরে একদিকে আলোকসজ্জা, অন্যদিকে ক্ষুধার যন্ত্রণায় ডাস্টবিনে খাবার খুঁজছে বিল্লাল


FavIcon
মোঃ নজরুল ইসলাম,(নিজস্ব প্রতিবেদক)যশোর:
প্রকাশিত: মে ২৭, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
সভ্যতার এই শহরে একদিকে আলোকসজ্জা, অন্যদিকে ক্ষুধার যন্ত্রণায় ডাস্টবিনে খাবার খুঁজছে বিল্লাল
সভ্যতার এই শহরে একদিকে আলোকসজ্জা, অন্যদিকে ক্ষুধার যন্ত্রণায় ডাস্টবিনে খাবার খুঁজছে বিল্লাল

যশোর শহরের লোহাপট্টি গলির মুখে বঙ্গবাজারের সামনে ব্যস্ত শহরের কোলাহলের মাঝেই একটি ডাস্টবিনের পাশে বসে উচ্ছিষ্ট খাবার কুড়িয়ে খাচ্ছেন বিল্লাল নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি। আর ঠিক পাশেই প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলেছেন ফাতেমা। সোমবার দুপুরে ক্যামেরায় ধরা পড়া এই দৃশ্য যেন শুধু দুই অসহায় মানুষের গল্প নয়, এটি সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়া এক নির্মম বাস্তবতা; যেখানে কারও ফেলে দেওয়া খাবারই আবার কারও বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন।ডাস্টবিনের পাশে বসে ছিলেন বিল্লাল নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি। এলোমেলো চুল, মলিন কাপড়, শুকিয়ে যাওয়া মুখ। শহরের মানুষের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট খাবারের স্তূপ থেকে তিনি কাঁপা হাতে খাবার তুলে মুখে দিচ্ছিলেন। চারদিকে মানুষ তাকিয়ে দেখছিল, কেউ ছবি তুলছিল, কেউ ভিডিও করছিল—কিন্তু বিল্লালের চোখে তখন শুধুই ক্ষুধা।
সাইফুল মালিক জানান, বহুদিন ধরেই বিল্লাল এই ডাস্টবিনের আশেপাশেই থাকেন। রোদে পুড়েন, বৃষ্টিতে ভিজেন, ঝড়ের রাতেও সেখানেই পড়ে থাকেন। আশ্চর্যের বিষয়, বাইরে থেকে দেওয়া খাবার তিনি খান না। নির্দিষ্ট কয়েকজন মানুষ খাবার দিলে তবেই খান, অন্যথায় ডাস্টবিনের খাবারই তার শেষ ভরসা।
ডাস্টবিনের পাশেই আরেকটি জীবনের লড়াই। ফাতেমা নামের এক অসহায় নারী প্রতিদিন সেখানে পড়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল, কৌটা ও বাতিল জিনিস কুড়িয়ে বেড়ান। সেগুলো বিক্রি করেই চলে তার সংসার। জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে যেন ক্লান্ত হয়ে গেছে তার চোখদুটি।
ফাতেমার ভাষ্যমতে, একটি ছেলে ছিল। অভাবের নির্মম আঘাতে সেই সন্তানও আজ পৃথিবীতে নেই। একটি মেয়ে আছে, সেও তালাকপ্রাপ্ত। মেয়েকে নিয়ে অনিশ্চয়তার জীবন টেনে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডাস্টবিন ঘেঁটে যা পান, তাই দিয়ে কোনোমতে দুমুঠো খাবারের ব্যবস্থা হয়। সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা তিনি পান না।
ফাতেমার কণ্ঠে জমে থাকা কষ্ট যেন পুরো সমাজের কাছে এক নীরব প্রশ্ন—
মানুষ কি সত্যিই এত অসহায় হতে পারে?
লোহাপট্টির সেই গলির মুখ দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চলাচল করে। কেউ ব্যস্ত ব্যবসায়, কেউ জীবিকার সন্ধানে। কিন্তু ডাস্টবিনের পাশে পড়ে থাকা বিল্লাল আর ফাতেমার দিকে তাকানোর সময় যেন কারও নেই। সভ্যতার এই শহরে একদিকে আলোকসজ্জা, অন্যদিকে ক্ষুধায় মানুষের ডাস্টবিনে খাবার খোঁজার দৃশ্য—এ যেন এক নির্মম বৈপরীত্য।কবি জীবনানন্দ দাশের ভাষায়“মানুষের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়,এই মানুষগুলো কি সত্যিই মানুষের মতো বাঁচতে পারছে?
আজকের এই দৃশ্য শুধু একটি ছবি নয়, এটি সমাজের বিবেকের সামনে ছুড়ে দেওয়া এক কঠিন প্রশ্ন। রাষ্ট্র, সমাজ ও বিত্তবানদের সামান্য সহানুভূতি হয়তো বদলে দিতে পারে বিল্লাল ও ফাতেমাদের জীবন। নইলে শহরের কোনো এক ডাস্টবিনের পাশে, ক্ষুধার কাছে হার মেনে, নিঃশব্দে হারিয়ে যাবে আরও অনেক জীবন। 

Banner
Side banner

সারাদেশ বিভাগের আরো খবর

Small Banner
Side banner