দীর্ঘদিনের নিরলস প্রচেষ্টাকে শক্তিতে রূপ দিয়ে জাপান সরকারের মর্যাদাপূর্ণ ‘মেক্সট’ (MEXT) স্কলারশিপ অর্জন করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম ব্যাচের (২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর মো. শাহিনুর রহমান।কৃষক পরিবারের সন্তান শাহিনুর রহমানের উচ্চশিক্ষার এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। অনার্সে ৩.৬৫ সিজিপিএ এবং ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জনের পরও মাস্টার্সের প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়া এবং থিসিসের সুযোগ হাতছাড়া হওয়া দিয়ে শুরু হয় তার মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। পরবর্তীতে বোন ও মাকে হারানোর শোক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পেয়েও ভেঙে পড়েননি তিনি। বরং সব ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপ দিয়ে স্কলারশিপের প্রস্তুতি শুরু করেন।দীর্ঘ দুই বছরের চেষ্টায় আইইএলটিএস (IELTS)-এ কাঙ্ক্ষিত স্কোর অর্জন এবং তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় মেক্সট স্কলারশিপের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হন তিনি। এর আগে দ্বিতীয়বারে আত্ম অর্থায়নে (Self-funded) ভর্তির সুযোগ পেলেও ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপের লক্ষ্যে নিজের চেষ্টা চালিয়ে যান।নিজের অনুভূতি ও সাফল্যের নেপথ্য গল্প তুলে ধরে শাহিনুর রহমান বলেন, “আমি একজন কৃষকের সন্তান, এই পরিচয়ে আমি গর্বিত। ২০১৪ সাল থেকে প্রতিটি সংগ্রামে আমার সহধর্মিণী নিঃস্বার্থভাবে পাশে থেকেছেন। তাঁর সাহস, ভালোবাসা ও ত্যাগ ছাড়া এতদূর আসা সম্ভব হতো না।” উল্লেখ্য, তাঁর স্ত্রীও জাপানে এডিবি (ADB) স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশের ক্রীড়াবিজ্ঞানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে নিতে কাজ করতে চাই, যাতে বিশ্ব দরবারে দেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে।” জুনিয়রদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়ে তিনি যোগ করেন, “দারিদ্র্য বা সীমাবদ্ধতা নয়, মানুষের সবচেয়ে বড় বাধা নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা। স্বপ্ন দেখো, কঠোর পরিশ্রম করো, সাফল্য একদিন ধরা দেবেই।



































আপনার মতামত লিখুন :