কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বাসুর চর গ্রামের এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।আটক করা হয়েছে সন্দেহভাজন এক যুবককে। তার পরিচয় গোপন রেখেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ধারণা কোনো ঘটনা আড়াল করার জন্য তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হতে পারে।
নিহতরা হলেন- সৌদি আরব প্রবাসী মঞ্জিল মিয়ার স্ত্রী তাসলিমা (৪২), মেয়ে মোহনা (১১) ও বন্যা (৭)। এদের মধ্যে মোহনা স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ও বন্যা প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, একসঙ্গে স্কুলে যেতে ফারজানা নামে মোহনার এক সহপাঠী সকাল ৯টার দিকে তার বাড়িতে যায়।ঘরের দরজা খোলা দেখে সে ঢুকে মোহনা ও তার মা-বোনকে আলাদা খাটে শুয়ে থাকতে দেখে। এমন অবস্থায় তাদের ঘুম থেকে জাগাতে হাত ধরে টানাটানি করে ফারজানা। কিন্তু তাদের কোনো সাড়া মেলেনি। তখন ফারজানা ভয় পেয়ে যায়। সে ঘর থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশীদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে এমন পরিস্থিতি দেখে পুলিশে খবর দেয়।
একই গ্রামের অধিবাসী সাহেদল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান জানান, ২০১৭ সালের দিকে মঞ্জিল মিয়া সংসারের অভাব-অনটন ঘোচাতে কাজের সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। তাদের পরিবারের সঙ্গে কারো কোনো বিরোধের দৃশ্যমান ঘটনা নেই। এমন নিষ্ঠুর ঘটনায় এলাকাবাসী হতবাক ও স্তম্ভিত।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ বলেন, খবর পেয়ে মা ও দুই মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের স্বামী একজন সৌদি প্রবাসী বলে জানা গেছে। তবে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক। তদন্ত ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইয়ের ফরেনসিক বিভাগ ও সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এর রহস্য উন্মোচনের জন্য পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগ কাজ শুরু করেছে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সৌদি প্রবাসী মঞ্জিল মিয়ার বাড়িতে যাতায়াতকারী একই গ্রামের ৩৫ বছর বয়সি এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।




















আপনার মতামত লিখুন :