Swadesh Chitro
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
banner

যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, বিদেশে পালানোর সময় প্রধান আসামি গ্রেফতার


FavIcon
মৌলভীবাজার,প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২১, ০৯:৫৩ পিএম
যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, বিদেশে পালানোর সময় প্রধান আসামি গ্রেফতার

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার চৈত্রঘাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও রহিমপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানকে  (৩৬) কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে বিদেশ যাওয়ার সময় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজার এসপি অফিসের সম্মেলন কক্ষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া। তিনি বলেন, মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম মুজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার কমলাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।এ সময় কমলগঞ্জের চৈত্রঘাট বাজারের ব্যবসায়ী নাজমুল হাসানকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি তফাজ্জুল আলী (৩৫) ও তার সহযোগী খালেদ মিয়াকে (৫৩) গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি পাসপোর্ট, এয়ার টিকিট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোবাইল, সিমকার্ড, দিরহাম ও টাকা উদ্ধার করে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তফাজ্জুল আলী ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। সে জানায়, গত ২ জুন নিহত নাজমুল পূর্বে গ্রেফতার হওয়া আসামি জুয়েলের ওপর হামলা করে পঙ্গু করে দেয়। ওই ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনার পর নিহত নাজমুলের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ২ থেকে ৩ মাস যাবত নিহতের ওপর নজরদারি চালায় তারা। ভিকটিম বিষয়টি বুঝতে পেরে কমলগঞ্জ বাজারে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। প্রয়োজন ছাড়া বাজারের বাহিরে যেতেন না।পুলিশ সুপার বলেন, আসামিরা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন আগে দৈনিক ভিকিটিমকে দলবদ্ধভাবে নজরদারি করতে থাকে। তারা হামলার কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য দৈনিক চুক্তিতে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে। ঘটনার দিন ৩১ অক্টোবর চৈত্রঘাট কালীমন্দিরের সামনে আসামিদের গাড়িটি অপেক্ষারত ছিল। ওই দিন বাজার কিছুটা জনশূন্য এবং ভিকটিম নাজমুল একা থাকার সুযোগে তফাজ্জুলের নেতৃত্বে হামলা করে আসামিরা দ্রুত পালিয়ে যায়। তফাজ্জুল জানায়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বিদেশে পলায়নের জন্য আগে থেকেই টিকিট কাটা ছিল। মোহাম্মদ জাকারিয়া আরও জানান, মূলত বাজারে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নাজমুল ও তফাজ্জুলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দন্দ্ব ছিল। এর আগেও তাদের মধ্যে অনেক মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বাজারে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়। কিন্তু তারপরও একটি হত্যার ঘটনা ঘটে যায়। এ ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে সারা দেশে আলোড়ন তৈরি হয়। জেলা পুলিশ এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।এদিকে সোমবার হত্যাকাণ্ডে ভাড়ায় আনা মাইক্রোবাস জব্দ করে চালক আমির হোসেনকে গ্রেফতার করেছিল কমলগঞ্জ থানার পুলিশ। সোমবার রাতে রাজনগর থেকে জুয়েল মিয়া নামে তালিকাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ব্যবসায়ী নাজমুল সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে তার বাসার দিকে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে একটি মাইক্রোবাস থেকে নেমে হামলাকারীরা তাকে ধাওয়া করে। তিনি সড়কে পরে গেলে চারজনের অধিক ব্যক্তি দা দিয়ে ব্যবসায়ীর পায়ে কুপাতে থাকে।এ সময় ভাড়ায় আসা মাইক্রোবাস দ্রুত মৌলভীবাজারের  দিকে চলে যায়। চারজন ব্যবসায়ীর পায়ে কুপানোর সময় একজন আবার ব্যবসায়ীর মাথায় ও দেহে লাথি মারতে থাকে। কুপানোর সময় বেশ কয়েকজন এগিয়ে এলেও তাকে কেউ সাহায্য করেননি। নাজমুল অবচেতন হয়ে পড়লে হামলাকারীরা ধীরে ধীরে পূর্বদিকে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ওপর দিয়ে নিরাপদে চলে যায়।পুলিশ আরও জানায়, ধলাই নদীর বালুঘাট নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত দেড় মাসে এই দুই পক্ষের মাঝে তিনবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। কমলগঞ্জ থানায়ও মামলা হয়েছে। তাছাড়া ব্যবসায়ী নাজমুল হামলাকারী ৪ জনের নাম প্রকাশকালে ভিডিও লাইভে বলেছিলেন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি রহিমপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী ছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তফাজ্জুল। এ নিয়ে তার সঙ্গে বিরোধের জের ছিল দীর্ঘদিনের।

Banner
Side banner
Side banner