Swadesh Chitro
  • ঢাকা বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
banner

জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ জামালপুর সদরের নাজমুস সাকিব


FavIcon
জামালপুর,প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ জামালপুর সদরের নাজমুস সাকিব
জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ জামালপুর সদরের নাজমুস সাকিব

দুচোখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। কাজে দক্ষ, আচরণে মানবিক। চরিত্রে দৃঢ়তা ও সততার প্রতিচ্ছবি। পুলিশ বিভাগের এমন বহুগুণের অধিকারী হলেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুস সাকিব । ইতিপূর্বে জামালপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি ১ ও সদর সদর থানায় অফিসার ইনচার্জ এবং ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ কর্মরত থাকার সময় বেশ প্রসংসা কুড়িয়ে ছিলেন তিনি।   জামালপুরে যোগদানের পর জেলা পুলিশের জুলাই-২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অভিন্ন মানদণ্ডে পেশাদারিত্ব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাজমুস সাকিব।  রবিবার মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনের হাত থেকে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা ও পুরস্কার গ্রহণ করেন ওসি মো. নাজমুস সাকিব। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ ) মোরশেদা খাতুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) ইয়াহিয়া আল মামুন সহ পুলিশের বিভিন্ন অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন।  

এদিকে জামালপুর সদর থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের শুরু থেকেই তিনি মানবিকতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একজন ওসি কতটা জনপ্রিয় হতে পারেন তার ঝলমলে নজির ওসি নাজমুস সাকিব  । তার গল্প এখন থানার মানুষের মুখে মুখে। সরকারি রুটিন দায়িত্বের পাশাপাশি থানার বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির যেকোন অনুষ্ঠানে উৎসাহী উপস্থিতিই প্রমাণ দেয় তিনি কতটা উদার ও মিশুক প্রকৃতির মানুষ। কথাবার্তায় মার্জিত ও আচরণে অত্যন্ত ভদ্র এই মানুষটি মাত্র দের মাস পূর্বে কোতোয়ালী থানার ওসি হিসেবে যোগদানের পর মানুষের মন জয় করে নেন। থানার সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন নাজমুস সাকিব । জামালপুর সদর থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ওসি নাজমুস সাকিব। তাঁর নেতৃত্বে থানার পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।   

এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদক ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের কার্যক্রম ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিং ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে তিনি অপরাধ দমনে নতুন মাত্রা এনেছেন।

পুলিশের প্রতি মানুষের বিরূপ মনোভাব বিলুপ্ত করে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অজর্ন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। পুলিশের সাথে জনগণের দূরত্ব ঘুচানোর চ্যালেন্জে সফলতাও পেয়েছে অল্প খুবই সময়ে। বসবাসরত সাধারণ জনগণের মন জয় করে একের পর এক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন ওসি নাজমুস সাকিব ।

সাধারণ মানুষের কাছে ওসি নাজমুস সাকিব শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তা নন — বরং একজন ভরসার জায়গা, যিনি কখনো অসহায়দের সহায়, আবার কখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক লড়াকু। এলাকায় অপরাধ দমনে তিনি নিয়মিত টহল জোরদার, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান এবং কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন তিনি।  একই সঙ্গে তিনি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। 

পুরস্কার গ্রহণের পর অফিসার ইনচার্জ  মো. নাজমুস সাকিব সোমবার বিকেলে বলেন, এই সম্মাননা আমার একার নয়, এটি জামালপুর সদর থানার প্রতিটি কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত পরিশ্রমের স্বীকৃতি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও যেকোনো ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে। জনগণের সেবা করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।  তিনি আরও বলেন, “পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে হলে জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এই পুরস্কার আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জামালপুর সদর থানার সকল কর্মকর্তা ও ফোর্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।৷  তিনি আরো জানান, সরকারের এবং সিনিয়র কর্মকর্তা মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় আমি চেষ্টা করেছি সরকারের সকল কর্মকাণ্ড সুন্দর ও সুচারুভাবে পালন করে সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে।  থানার  সকল জনসাধারণের ও সাংবাদিকদের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আমি আমার কর্মধারা সুপরিকল্পিতভাবে অব্যাহত রাখতে পারবো বলে আশা করি। অপরাধ দমনে সবাইকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করছি।  

জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, “অভিন্ন মানদণ্ডে কর্মদক্ষতা, পেশাদারিত্ব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন ও জনসেবায় যারা ভালো কাজ করছেন, তাদের মূল্যায়ন করাই এ ধরনের স্বীকৃতির মূল উদ্দেশ্য। জামালপুর সদর থানার ওসি মো. নাজমুস সাকিব দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর এই অর্জন অন্য পুলিশ সদস্যদেরও আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করবে।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জামালপুর জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের উৎসাহিত করা হবে।”

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা বিধান ও জনসেবায় ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ওসি নাজমুস সাকিবের এ অর্জন জামালপুর সদর থানার জন্য গৌরবের বিষয়। তাঁর এই সাফল্য আগামী দিনে আরও দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মাসুদুর রহমান জামালপুর প্রতিনিধি 

Banner
Side banner

সারাদেশ বিভাগের আরো খবর

Small Banner
Side banner