কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের পশ্চিম পাশে মীর মশাররফ হোসেন সড়কে অবস্থিত স্কুল হেলথ ক্লিনিক। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্কুল শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ক্লিনিকটির পাশের ড্রেন বৃষ্টির পানিতে উপচে পড়লে জলাবদ্ধতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পানি বেড়ে গেলে ক্লিনিকের সামনের অংশে পানি জমে যায়, কখনো পানি ঢুকে পড়ে ভেতরেও। এতে ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসক ও সেবা নিতে আসা মানুষরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে।
বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়ে ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিক্যাল অফিসার নাজমা খাতুন সমস্যা সমাধানে নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, “আমাদের এখান থেকে শিক্ষার্থীরা সচেতনতা, কাউন্সিলিং এবং ঔষধ সবই বিনামূল্যে পাচ্ছে। তাদের দৈহিক ও মানসিক পরিবর্তনের সময় প্রয়োজনীয় কাউন্সিলিং বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে আমাদের মাত্র ৪ জন স্টাফের সমন্বয়ে সব কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এখানে কোনো পিয়ন বা আয়া নেই।
এছাড়াও ক্লিনিকের ভবন অনেকটা মাটিতে বসে গেছে। ফলে বিভিন্ন কক্ষে পানি প্রবেশ করে। ছাদ থেকেও পানি চুইয়ে পড়ে। আমার কাছে মেরামতের চিঠি এসেছিলো। কিন্তু আমি তাতে স্বাক্ষর করি নাই। কারণ এই ভবনটি আর মেরামতযোগ্য নেই। এখন এই ভবন ভেঙে আবার নতুন করে তৈরি করা দরকার।” অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, সীমিত ঔষধ সরবরাহ ও জনবল সংকটের মধ্যেও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। স্কুল হেলথ ক্লিনিকের ফার্মাসিস্ট ফিরোজ জানান, “বর্ষার সময় আমাদের খুব অসুবিধা হয়। ড্রেনের পানি পূর্ণ হয়ে আমাদের ভবনের মধ্যে পানি প্রবেশ করে। তার সঙ্গে নোংরা আবর্জনা এবং কাদাও প্রবেশ করে। আমাদের এখানে এখন একটি নতুন ভবন প্রয়োজন।” ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা এক শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসাসেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
স্কুল হেলথ ক্লিনিকে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা শিক্ষার্থী আমির হামজা জানান, “আমি ঠান্ডা ও কাশি নিয়ে এসেছিলাম। এখান থেকে চিকিৎসা নিই এবং বিনামূল্যে ঔষধ পাই। তবে তারা জানিয়েছে এখানে খুব বেশি পরিমাণ ঔষধের সরবরাহ নেই। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ ঔষধ সরবরাহের দাবি জানাই। আর এই বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সবাই অবগত নয়। তাদেরকে জানাতেও হবে।” এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ কামাল হোসেন বলেন, “পুরোনো ভবন, জনবল সংকট ও বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতার বিষয়টি নিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সমস্যা হলো এদিকে থাকলে ওদিকে থাকে না।
যদি পর্যাপ্ত চিকিৎসক দেয়া হয়, তাহলে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক টিম থাকে না। আবার পর্যাপ্ত সহায়ক টিম দিলে সেই অনুপাতে ডাক্তার থাকে না। এখন আপাতত আমরা অবকাঠামোগত সংস্কার করতে পারবো। আর স্কুল হেলথ ক্লিনিক শহরের আশেপাশে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমেও সেবা দেয়।” দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসা এই ক্লিনিকের কার্যক্রম সচল থাকলেও পুরোনো ভবন, জনবল সংকট ও বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হলে চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শরিফ মাহমুদ, কুষ্টিয়া







































আপনার মতামত লিখুন :