গ্রাহকদের মাসিক ডিপিএস (DPS)-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জমানো টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিএম ইউসুফ আলী ও জেলা সমন্বয়কারী মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার ( ২১ জুলাই) সিরাজগঞ্জ মোকাম বিঞ্জ সদর থানা আমলী আদালতে ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. আব্দুল কাইয়ুম বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। যার মামলা নং - সিআর ৯৯৩/২০২৬( সিরাজগঞ্জ) । বিঞ্জ সদর থানা আমলী আদালতের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসামীর বিরুদ্ধে সমন ইস্যু করেছেন।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি কোম্পানি সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠপর্যায়ের কর্মী ও কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মাসিক ৫০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রিমিয়াম সংগ্রহ করত। সাধারণ গ্রাহকরা কেউ ৫ বছর, আবার কেউ ১০ বছর ও ১৫ বছর মেয়াদে কষ্টার্জিত টাকা জমা দিয়ে নিয়মিত রশিদ সংগ্রহ করেছেন।
তবে বিপত্তি ঘটে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর। ডিপিএস-এর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর পাওনা টাকা ফেরত নিতে গ্রাহকরা কোম্পানির সিরাজগঞ্জ অফিসে যোগাযোগ করলে টনক নড়ে তাদের। অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা টাকা প্রদানে নানা তালবাহানা ও কালক্ষেপণ শুরু করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
শত শত ভুক্তভোগী গ্রাহক তাদের জমানো টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় দিনের পর দিন অফিসে ঘুরেও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না। গ্রাহকদের অভিযোগ, টাকা রিফান্ড পাওয়ার দাবিতে কোম্পানির দ্বারে দ্বারে ঘুরে জুতার তলা ক্ষয় করলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শুধু আশ্বাসই মিলছে, কোনো টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। অবশেষে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় জমানো টাকা ফেরতের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন গ্রাহকরা।
এই বিষয়ে বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শওকত আলী সেলিম বলেন, আমার মক্কেল প্রতি বছর ৫০৮৯৫/ টাকা ১৫ বছর মেয়াদে বীমা চালু করেন। যার পলিসি বীমা নাম্বার ০২০৬০০৪৭৪২-৮ । উক্ত বীমাটির মেয়াদ শেষ হয় ০৮/১২/২০২৪ ইং তারিখে। বীমার টাকার পরিমান ১৫ লাখ ২৬ হাজার ৮৫০ টাকা।
আমার মক্কেলকে টাকা না দিলে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয়। লিগ্যাল নোটিশ প্রাপ্ত হয়ে টাকা পরিশোধের কথা উল্লেখ করেন। কিন্তু আসামী অদ্যাবধি পর্যন্ত টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
"সাধারণ মানুষ তাদের ভবিষ্যৎ এবং নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কষ্টার্জিত টাকা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে আমানত হিসেবে রেখেছিলেন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোম্পানি গ্রাহকদের টাকা ফেরত না দিয়ে চরম প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের আশ্রয় নিয়েছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পাওনা টাকা আদায়ের লক্ষ্যেই সিরাজগঞ্জ আমলী আদালতে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আমরা আশা করি, আদালতের মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা খুব দ্রুতই ন্যায়বিচার পাবেন।"
টাকা ফেরত না পেয়ে সিরাজগঞ্জের শত শত গ্রাহকের মধ্যে বর্তমানে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এই বিষয়ে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সিরাজগঞ্জ কার্যালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




































আপনার মতামত লিখুন :