Swadesh Chitro
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
banner

দিরাইয়ে চেয়ারম্যান আত্মহত্যা মামলার প্রধান আসামি হবু ছেলেসহ গ্রেফতার


FavIcon
সুনামগঞ্জ,প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৩, ০৯:৫৭ পিএম
দিরাইয়ে চেয়ারম্যান আত্মহত্যা মামলার প্রধান আসামি হবু ছেলেসহ গ্রেফতার
দিরাইয়ে চেয়ারম্যান আত্মহত্যা মামলার প্রধান আসামি হবু ছেলেসহ গ্রেফতার

সুনামগঞ্জ দিরাইয়ে দাদন ব্যবসায়ীদের মামলায় পরোয়ানাভুক্ত চেয়ারম্যান সৌম্য চৌধুরী বিষপানে আত্মহত্যা ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি হাবিবুর রহমান ওরফে হবু সুদখোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ জুলাই) দুপুরে বাবা ও ছেলেকে আদালতে সোপর্দ করার বিষয় নিশ্চিত করেন দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজি মোক্তাদির হোসেন। এর আগে রাতে অভিযান চালিয়ে তাদরকে দিরাইয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ।

সৌম্য চৌধুরী দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান। দাদন ব্যবসায়ী দিরাই পৌর এলাকার আনোয়ারপুর গ্রামের মরহুম আকবুল মিয়ার ছেলে সুদখোর হাবিবুর রহমান হবু এ মামলার প্রধান আসামি।

দিরাই থানা সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন চেয়ারম্যান সৌম্য চৌধুরী সুদখোর হবু ও জসীমদের নাম উল্লেখ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ১৭ জুন রাতে সৌম্য চৌধুরীর স্ত্রী ইলা চৌধুরী পাঁচজনকে আসামি করে সুনামগঞ্জের দিরাই থানায় মামলা করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, 'গত ৪ জুন সৌম্য চৌধুরী আত্মহত্যা করেন। সৌম্য চৌধুরীর মৃত্যুর জন্য থানায় লিখিত অভিযোগে ইলা চৌধুরী বলেন, আসামিরা সঙ্ঘবদ্ধ, সুদখোর ও প্রতারক চক্রের লোক। আমার স্বামী একজন সহজ সরল লোক ছিলেন। রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আসামিরা আমার স্বামীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং ওই সুবাধে বিভিন্ন সময় আমাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করত। আমার স্বামীর আর্থিক সমস্যা দেখা দিলে হাবিবুর রহমান হবু ও জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে কিছু টাকা কর্জ বা হাওলাত আনেন। এ সময় তারা আমার স্বামীর কাছ থেকে ব্যাংকের চেকের খালি পাতায় স্বাক্ষর নেয়। পরবর্তীতে আসামিরা কর্জের টাকাকে সুদের টাকা বলে প্রচার করে। প্রতারক সুদখোর আসামিরা আমার স্বামীর স্বাক্ষর করা খালি চেকের পাতায় ইচ্ছামতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে আদালতে চেক ডিজঅনার মামলা করে। মামলা চলা অবস্থায় দিরাই পৌরসভার তৎকালীন মেয়র মোশাররফ মিয়ার মধ্যস্থতায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। এ সময় সিদ্ধান্ত হয় আসামিরা আদালত থেকে মামলাটি উঠিয়ে আনবে। কিন্তু হাবিবুর রহমান ও জসিম উদ্দিন সুকৌশলে মামলা না উঠিয়ে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দেয়ায়। আদালত আমার স্বামীকে সাজা প্রদান করেন। এরপর থেকে আমাদের বাড়িঘরসহ যাবতীয় সম্পত্তি তাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। না দিলে পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে আমার স্বামীর মান-সম্মান নষ্ট করাসহ ও হত্যার হুমকি দেয়। ‘

তিনি আরো বলেন, ‘আমার স্বামী মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে মামলায় উল্লিখিত পাঁচ আসামি আমাদের বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে বলে, 'টাকা না দিতে পারলে বিষ খাইয়া মরিস না কেন'। আসামিদের এমন ব্যবহারে আমার স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ঘটনার আগের দিন আমার স্বামীকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে আমার স্বামী সিলেটে যাবেন বলে বাড়ি থেকে বের হন। এর পরের রাতে সংবাদ পাই মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থানা পুলিশ একটি সড়কের পাশ থেকে আমার স্বামীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে। এরপর হাসপাতালে নিলে ডাক্তার আমার স্বামীকে মৃত ঘোষণা করেন। আমার স্বামী হাবিবুর রহমান ও জসিম উদ্দিনের মানসিক অত্যাচার ও নির্যাতনে বিষ খেয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানতে পারি। তিনি মৃত্যুর আগের দিন আমার স্বামী নিজের আইডি থেকে ফেসবুকে আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে স্ট্যাটাস দিয়ে গেছেন।'

এদিকে সুদখোরদের যন্ত্রণায় অতিষ্ট হয়ে একজন সাবেক চেয়ারম্যানের আত্মহত্যার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে সচেতন মহল। সুদখোর ও দাদন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন দিরাইয়ে মানববন্ধন করেছে। তাছাড়া ফেসবুকে সুদখোরদের নিয়ে লেখালেখির জেরে গত সোমবার দিরাই বাজারের সেন মার্কেটের একজন ব্যবসায়ীকে সন্ত্রাসী কায়দায় হবু ও তার ছেলে শুভ একটি দোকানে আটকে রেখে নির্যাতন করে। এ খবরে বাজারের ব্যবসায়ীগন ক্ষুব্ধ হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে থাকে।

একপর্যায়ে দিরাই থানার এস আই আব্দুস সত্তার ও রাজু মিয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে দিরাই কাঠ বাজারের বাসা থেকে বাবা-ছেলেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরদিন সুদখোর হবু ও তার ছেলে শুভকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজি মোক্তাদির হোসেন গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

Banner
Side banner
Side banner