জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের সাংবাদিক মাসুদুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকি সহ বিভিন্ন হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে জামালপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান আবেদনটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। মাসুদুর রহমান বর্তমানে দৈনিক সংবাদ সারাবেলা পত্রিকার জামালপুর জেলা প্রতিনিধি এবং দৈনিক আলোচিত জামালপুর পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
জানা যায় , গত ৪ জুলাই মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিঝুড়ি পশ্চিমপাড়া এলাকার লেবু মিয়ার ছেলে তামিম আহমেদ সবুজ (ওরফে পিচ্চি সবুজ) (৩৫)-কে নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক মাসুদুর রহমান। সংবাদটিতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এবং নিজেকে জাতীয়তাবাদী তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের সভাপতি পরিচয়দানকারী তামিম আহমেদ সবুজের দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এছাড়া তিনি মাদারগঞ্জ এ.এইচ.জেড. সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও পরিচিত।‘স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর ভিডিও ভাইরাল, চলছে আলোচনা-সমালোচনা’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই সংবাদটি বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সাংবাদিক মাসুদুর রহমানের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। পরদিন ৫ জুলাই বিষয়টি মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নজরে এলে দলটির পক্ষ থেকে তামিম আহমেদ সবুজকে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
জিডির তদন্তের আবেদনে অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ৫ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ২৬ মিনিটে জামালপুর শহরের মালগুদাম রোড এলাকায় অবস্থানকালে তামিম আহমেদ সবুজ তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৬১৭-৮২২৮৪৫ থেকে সাংবাদিক মাসুদুর রহমানের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৯৭৮-৫০৫২৪৪-এ কল ও বার্তা পাঠিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক মাসুদুর রহমান ৫ জুলাই জামালপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৩৫২, তারিখ: ০৫/০৭/২০২৬) করেন।
উল্লেখ্য যে , অভিযুক্ত তামিম আহমেদ সবুজের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষ ও নারীদের মারধর, ব্ল্যাকমেইল করে ভিডিও ধারণের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের মতো বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহার করে তাদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করারও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিক মাসুদুর রহমান বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তামিম আহমেদ সবুজ আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে বারবার কল ও মেসেজ দিয়ে সংবাদ ও ফেসবুক পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন এবং বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। আমি তাকে জানাই, সংবাদ বা পোস্ট সরানো সম্ভব নয়। যদি তার কোনো বক্তব্য বা প্রতিবাদ থাকে, তাহলে তা মাদারগঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু পরদিন তিনি আমাকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং মেসেজের মাধ্যমেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে আমি জামালপুর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করি।
তিনি আরও জানান, “থানার পক্ষ থেকে এএসআই খোকন মিয়া বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।





































আপনার মতামত লিখুন :