ছয় বছরের শিশু ইতি হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। নির্মম এ হত্যার এখনো কোনো কুলকিনারা করা যায়নি। তাই অসহায় বাবা মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে বুকে পোস্টার লাগিয়ে ঘুরছেন পথে পথে।
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার বিরামচর গ্রামে ২০১৮ সালে ঘটে শিশু ইতি আক্তারকে হত্যা করা হয়। হৃদয়বিদারক ও পাশবিক এ হত্যাকাণ্ডের কোনো সুরাহা আজও হয়নি।
জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার বিরামচর গ্রামের চটপটি বিক্রেতা মো: আব্দুস শহিদ মিয়ার শিশুকন্যা ইতি আক্তার। প্রতিদিন সহপাঠীদের সাথে গ্রামের মসজিদের মক্তবে আরবি পড়তে যায়। ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই সকালেও আরবি পড়তে যায় ইতি। মক্তবের পড়া শেষে সহপাঠীরা সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেলেও ইতি আক্তারের ফেরা হয়নি। বাড়িতে অপেক্ষমান ইতির মা-বাবা ও পাড়া প্রতিবেশী হন্যে হয়ে ইতিকে খুঁজতে থাকে। সারাদিন খোঁজাখুঁজির পর কোথাও পাওয়া যায়নি।
এ নিয়ে ইতির বাবা আব্দুস শহীদ শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করেন। পরদিন ২৬ জুলাই সকালে বিরামচর গ্রামের সাহেব বাড়ি সংলগ্ন মক্তবের পার্শ্ববর্তী একটি ঝোপ থেকে শিশু ইতির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে গ্রামের লোকজন। এরপর যথারীতি পুলিশ আসে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে আটক করে। এ হত্যাকাণ্ডে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সংশ্লিষ্টতা না থাকায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর ইতির বাবা মো: আব্দুস শহিদ শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। এক পর্যায়ে মামলাটি সিআইডিতে যায়। সবশেষে ইতি হত্যা মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ পাঠানো হয়। বর্তমানে এ ইতি হত্যা মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে।
এ হত্যাকাণ্ডের বয়স পাঁচ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন এখনো দাখিল করা হয়নি। এখন পর্যন্ত অধরাই থেকে গেল হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি। ইতি হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ইতির পরিবার ও এলাকাবাসী।
এদিকে ইতি আক্তারের বাবা আব্দুস শহীদ তার মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে দিকবিদিক ঘুরছেন। মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে বুকে পোস্টার লাগিয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। ইতির বাবার প্রশ্ন, কবে পাবেন তার মেয়ে হত্যার সুবিচার?






































আপনার মতামত লিখুন :