গত রোববার বেলা দেড়টায় দশমিনা উপজেলা সদরের নলখোলার একটি বহুতল ভবনের চারতলা ফ্ল্যাট বাসার বাথরুম থেকে মৌসুমীর লাশ উদ্ধার করা হয়। সোহাগ চেয়ারম্যানের ভয়াবহ নির্যাতনের কথা মৃত্যুর আগেই বড় বোন বুলবুল আক্তারকে চিরকুট লিখে জানিয়েছিলেন তিনি। চিরকুটে মৌসুমী লিখেছেন, বুলবুল আপা আমি তোমার ছোট বোন মৌসুমী। উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আজীজ মিয়ার ভাতিজা ৫ নম্বর বহরমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান সোহাগের সঙ্গে আমার ১৫ মাস আগে বিয়ে হয়। এই ১৫ মাসে এমন কোনো মাস নেই যে মাসে আমাকে ২-৩ বার মারেনি। প্রতিনিয়ত সে নেশা করে বাসায় আসে। আমি তার সঙ্গে কথা বললেই আমাকে নির্মমভাবে আঘাত করে। আমার সাজানো গোছানো সংসার, তিনটি সন্তান সব আমার থেকে ছিন্ন করে দিয়েছে। ও আমাকে মেরে ফেলবে। আমি মরে গেলে ওকে তোমরা ছাড়বে না।
আমার মৃত্যুর জন্য শুধু সোহাগ চেয়ারম্যান দায়ী থাকবে। গত সোমবার পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে সোহাগসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলার সঙ্গে চিরকুটের কপি সংযুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, মৌসুমীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে নেয়ার পর চেয়ারম্যান সোহাগকে কোথাও দেখতে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া মৌসুমীর ঘাড়ের বাম দিকে কানের নিচে লালচে দাগ, থুতনির উপরে এবং নিচে আঘাতের দাগ এবং উপরের পাটির একটি দাঁত ভাঙা এবং বুকের দিকে জখম রয়েছে। এ বিষয়ে দশমিনা থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, আদালতে দায়ের করা মামলার কোনো কপি এখনো তারা হাতে পাননি। আসাদুজ্জামান সোহাগের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তার বড় ভাই মো. কামরুল ইসলাম জানান, চিঠিটি অন্য কেউ লিখে আমাদের ফাঁসাতে চেষ্টা করছে। মৌসুমীর পরিবার সোহাগের কাছ থেকে আর্থিকসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমাদের পরিবারকে, সামাজিকভাবে অপদস্ত করতে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। উল্লেখ্য, চেয়ারম্যান সোহাগ দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আজীজ মিয়ার ছোট ভাই মো. খলিলুর রহমানের ছেলে।





































আপনার মতামত লিখুন :