Swadesh Chitro
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
banner

ছাড়া পেয়েই বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা লতিফ সিদ্দিকীর সমর্থকদের


FavIcon
টাঙ্গাইল,প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৪, ০৫:২২ পিএম
ছাড়া পেয়েই বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা লতিফ সিদ্দিকীর সমর্থকদের
ছাড়া পেয়েই বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা লতিফ সিদ্দিকীর সমর্থকদের

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সমর্থকরা পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পেয়েই নৌকার সমর্থকদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা ও মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বিকালে ও রাতে এ হামলা চালানো হয়।

হামলায় নৌকার অন্তত ১২ জন সমর্থক আহত হয়েছেন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার কস্তুরিপাড়া মাদ্রাসা মার্কেটে ঢুকে ট্রাক প্রতীকের সমর্থক ওই গ্রামের সোহরাব চেয়ারম্যান, জহুরুল ইসলাম, টুটুল মিয়া, মো. সুমন, খোকাসহ অনেকে নৌকার সমর্থক মিনহাজ সিকদার, শুকুর মামুদ সিকদারকে বেদম মারধর করে। এরপর ওই বাজারেই একটি ব্যাংকের এজেন্টের অফিসে গিয়ে জয়নাল আবেদীন সিকদারকে মারধর করে জহুরুল ইসলাম।

অপরদিকে মহিষজোড়া গ্রামের নির্বাচনের দিন রাতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নৌকার অফিস ভাঙচুর করে। পরদিন ঘটনাস্থলে পুলিশ যাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার বিকালে মহিষজোড়া গ্রামের আকাশ সিকদার, গোলাম মোস্তফা, বেলায়েত সিকদার, নোমান সিকদার, সেলিম সিকদার, পলু মিয়া, শফিকুল ইসলাম, আব্দুল আলীম, হাসান আলী, আলীম, সিয়াম সিকদারসহ ৫-৭ জনকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের ওপর হামলা করে গুরুতর আহত করে।

এদের মধ্যে গোলাম মোস্তফাকে ঢাকায় ও বেলায়েত সিকদার, নোমান, সেলিম ও আব্দুল আলীমকে টাঙ্গাইলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে- একই গ্রামের মিন্টু, শফিকুল, তোয়াজ, আলতাফ, মজনু, নজরুল, শামেস, মোতাহার, আক্কাস, আলম, কাদের ও চেকু মণ্ডলসহ আরও অনেকের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। এতে মিন্টু গ্রুপের আলমগীর, মিরু মিয়া ও আছরুল আহত হন।

নৌকার কর্মী মো. সেলিম সিদকার বলেন, নৌকার নির্বাচন করে আমরা বিপদেই আছি। তাদের নেতাকর্মী ছাড়া পাওয়ার পর আমাদের একাধিক নেতাকর্মীর বাড়ি ও তিনটি দোকানে হামলা করেছে। তাদের লোক এমপি। তাই আমরা ক্ষমতা ও প্রশাসন কোনো দিক দিয়েই তাদের সঙ্গে পারছি না। আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে সোহরাব চেয়ারম্যানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার নির্বাচনের দিন কালিহাতীর নাগবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুমের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার থানায় মামলা হয়। সোমবার রাতে এ মামলার এজাহারভুক্ত দুজনসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা সবাই লতিফ সিদ্দিকীর কর্মী-সমর্থক। গ্রেফতার করা অনুসারীদের মুক্তির দাবিতে লতিফ সিদ্দিকী মঙ্গলবার দুপুরে কালিহাতী থানার সামনে যান। তিনি গ্রেফতার কর্মীদের ছেড়ে দিতে বলেন। পুলিশ তাদের ছেড়ে না দেওয়ায় লতিফ সিদ্দিকী থানার সামনে রাস্তায় বসে পড়েন। এ সময় তার অনুসারীরা তার সঙ্গে যোগ দেন। ফলে এ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

দুপুর আড়াইটার দিকে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী অবস্থান ধর্মঘটস্থলে গিয়ে লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে থানায় প্রবেশ করে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ আটক ছয়জনের মধ্য থেকে এজাহারে নাম না থাকায় হাসমত আলী, হৃদয়, পিন্টু ও খোকাকে ছেড়ে দেন। এজাহারভুক্ত দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়।

গ্রেফতারকৃতদের ছাড়িয়ে আনার পরপরই তারা এলাকায় গিয়ে নৌকার সমর্থকদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা ও মারপিট শুরু করে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু বলেন, নাগবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাইকে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করেছে। জেলা পরিষদের সদস্য আয়নালের হকের বাড়িতে হামলা করেছে। তাকে পেলে মেরে ফেলত। তারা প্রভাব খাটিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মীকে মারধর ও বাড়িতে হামলা করেছে। এসব ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। কালিহাতীবাসীর নিরাপত্তা চাই ও আসামিদের শাস্তি চাই।

স্বতন্ত্র প্রার্থী লতিফ সিদ্দিকীর অনুসারী সাবেক চেয়ারম্যান হাসমত আলী বলেন, থানা থেকে আমাদের নেতাকর্মী বের হওয়ার পর কারো বাড়িতে কোনো প্রকার হামলা বা কাউকে মারধর করে নাই।

কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক বলেন, আসামিরা ছাড়া পেয়ে আবার হামলা করেছে- এমন কোনো তথ্য নেই আমার কাছে। তবে মহিষজোড়া গ্রামে ২৫ বছর ধরে মসজিদ নিয়ে ঝামেলা চলছে।

Banner
Side banner

সারাদেশ বিভাগের আরো খবর

Small Banner
Side banner