Swadesh Chitro
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
banner
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি:

‘আমি ভালো আছি’ বলেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করলো মাহতাব


FavIcon
কুমিল্লা,প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৫, ০১:০৭ পিএম
‘আমি ভালো আছি’ বলেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করলো মাহতাব
‘আমি ভালো আছি’ বলেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করলো মাহতাব

আমার জন্য টেনশন করো না, আমি ভালো আছি- মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে বাবাকে এমনটা সান্ত্বনা দিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে মাইলেস্টোন বিমান দুর্ঘটনায় দগ্ধ শিক্ষার্থী মাহতাব রহমান ভূইয়া (১৫)।

চারদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

মাতাবের বাবা মিনহাজুর রহমার ভূইয়া জানান, মৃত্যুর আগে আমার সোনা মানিক আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিল, ‘বাবা আমার জন্য টেনশন করোনা, আমি সুস্থ্য হয়ে যাব ইনশাল্লাহ’।

মাহতাবের পরিবার জানায়, গত ২১ জুলাই ঘটনার দিন স্কুল ছুটির ঠিক ১০/১৫ মিনিট আগে হঠাৎ স্কুলের ভবনে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণরত যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হতাহত হন। তার বাবা প্রতিদিন তাকে স্কুলে আনা-নেওয়া করতেন। সেদিনও একমাত্র সন্তানের জন্য বাইরে অপেক্ষা করছিলেন মিনহাজুর রহমান। দুর্ঘটনার পর বাবাসহ অন্যান্য অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের খুঁজে পেতে ছোটাছুটি করতে থাকেন। পরে সপ্তম শ্রেণীর মাহতাব রহমান ভূইয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় সেনাবাহিনী উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তার ঠাঁই হয় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চতুর্থ তলার আইসিইউর (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ১১ নম্বর বেডে। দুর্ঘটনায় তার শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।  

মাহতাব ওই স্কুলের ইংলিশ ভার্সনের সপ্তম শ্রেণিতে পড়তো। মাইলস্টোন স্কুলে তার শিক্ষার্থী কোড নম্বর ছিল ১০১৪। 

সে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার চুলাশ গ্রামের ভুঁইয়া বাড়ির মিনহাজুর রহমার ভূইয়া ও লিপি আক্তার দম্পতির একমাত্র ছেলে। পরিবারের ৩ ভাই বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিল। তার বড় বোন নাবিলা একই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী এবং ছোট বোন নাইসার বয়স ৩ বছর। তারা ঢাকার উত্তরায় একটি বাসায় থাকতেন। 

সবশেষ তার মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা থেকে মাহতাবের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। 

দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের চুলাশ-উখারী বাজার ঈদগাঁহ মাঠে রাত পৌনে ১০টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে বড় বাবা (দাদার বাবা) মৃত বারেক ভূইয়ার কবরের পাশে দাফন করা হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খাঁন। জানাজার নামাজ পড়ান, স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা লোকমান হোসেন।

 

Banner
Side banner

সারাদেশ বিভাগের আরো খবর

Small Banner
Side banner