নাটোর চিনিকলের ১২ নিরাপত্তারক্ষীকে অস্ত্রের মুখে বেঁধে রেখে ট্রাক ভিড়িয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত দল।
শনিবার রাত অনুমানিক দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতেরা নাটোর চিনিকলের বিভিন্ন দপ্তরের ফাইল পত্রও তছনছ করেছে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে রোববার সকালে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসোইন ও নাটোর সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আখলাছুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
চিনিকলের কর্মরত ফোরম্যান মো. মাহাবুব আলম জানান, শনিবার রাত দেড়টার দিকে একদল ডাকাত চিনিকলের পেছনের ভাঙা দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা অস্ত্রের মুখে মিলের ১২জন নিরাপত্তারক্ষীকে জিম্মি করে বেঁধে ফেলে। পরে মিল হাউজ, বিদ্যুৎ বিভাগ, প্রকৌশল বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে রক্ষিত নতুন পুরাতন বিভিন্ন ধরনের ধাতব মালামাল লুট করে ট্রাকে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতদল। ভোর ৪টার দিকে ডিউটি বদলের সময় অন্য নিরাপত্তারক্ষীরা এসে এমন অবস্থা দেখে চিনিকল কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়।
চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আখলাছুর রহমান জানান, বিষয়টি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ডাকাতির ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ৯০ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এর একটা তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ১০ পিস মিল হাউজ গান মেটাল জার্নাল বিয়ারিং (যার প্রতিটির ওজন ১৬০ কেজি), ওর্য়াকসপ হাউজের বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে ওয়েল্ডিং ক্যাবল ১ পিস; যার মূল্য আড়াই লাখ টাকা, ১২ পিস (৩০০ কেজি ওজন) বিভিন্ন সাইজের ব্রাশ শ্যাফট; যার মূল্য প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা, ৮ পিস বিভিন্ন পাম্পের ইম্পেলার (ব্রাশ); যার মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা, ৪ পিস বিভিন্ন পাম্পের ইনার প্লেট; যার দাম প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ৩ লাখ টাকা দামের সিরাপ পাম্প ১ পিস, দুই পিস মিল হাউজের ফিটিং বুশ, প্রায় ৫ লাখ টাকা দামের ব্যবহৃত আলমারির প্রয়োজনীয় ট্যুলস, ২ লাখ টাকা মুল্যের ২ পিস মোলাসেস পাম্পের স্টার ও রোটস, ৬ লাখ টাকা মূল্যের ২পিস মিল হাউজের স্ক্রীন্ডজুস পাম্প, ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ৬০ পিস পুরাতন বাতিলকৃত বিভিন্ন সাইজের বুশ, ২ লাখ টাকা মূল্যের ১৯ পিস ওয়েবিজের মালামাল ও প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের ইলেকট্রিক্যাল তারসহ বিভিন্ন প্রকার মালামাল রয়েছে।
নাটোর সদর থানার ওসি মো. মাহাবুর রহমান জানান, বিষয়টি জানার পরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। কি পরিমাণ মালামাল লুট হয়েছে, তার একটি প্রাথমিক তালিকা দিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। এ কাজের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ এ ব্যাপারে সজাগ রয়েছে। এ ব্যাপারে নাটোর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।






































আপনার মতামত লিখুন :