কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে নির্বাচনী কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা সেই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীকে পৃথক দুইটি কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে তাকে এ নোটিশ প্রদান করা হয়।আগামী ২৮ নভেম্বর তৃতীয় দফা অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে কেদার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কচাকাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান। শনিবার দুপুরে বিষ্ণুপুর নয়আনা গ্রামে তিনি তার বাড়িতে শিক্ষার্থীদের ডাকেন। এজন্য এদিন অগ্রিম ছুটির ঘণ্টা বাজানো হয় স্কুলে।পরে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে মাদারগঞ্জ-ভূরুঙ্গামারী সড়কের কচাকাটা বাজার, কেদার ইউনিয়ন পরিষদ মোড় হয়ে দীর্ঘ ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে তার বাড়িতে যায়। সেখানে তাদের নিয়ে নির্বাচনী বৈঠক করেন প্রধান শিক্ষক। বৈঠকে ওই স্বতন্ত্র প্রার্থী শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে মোটরসাইকেল প্রতীকে তাদের বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনের ভোট চান।এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, তোমরা তাদের কাছে ওয়াদা নিবে। তারা যেন অবশ্যই মোটরসাইকেল প্রতীকে ভোট দেন। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পরবর্তীতে তা প্রকাশ পায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায়।রোববার
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আহমেদ মাছুম বিষয়টি অবগত হয়ে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেদার ও কচাকাটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন-২০২১ এর রিটার্নিং কর্মকর্তা সিনিয়র মৎস্য অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দুইটি পৃথক পত্র দেন।ওই দিনই মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুর রহমানকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। এতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে তার লিখিতভাবে ব্যাখ্যা চেয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়।অপরদিকে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম তাকে আরও একটি নোটিশ প্রদান করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয় চলাকালে ছাত্রীদের নিজ বাড়িতে আপ্যায়ন, তাদের নির্বাচনী মিছিল ও প্রচারণার কাজে সম্পৃক্ত করা বিদ্যালয় পরিচালনার সম্পূর্ণ বিধিলঙ্ঘন। এজন্য কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না- এ বিষয়ে নোটিশ প্রাপ্তির ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তা লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়।এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আহমেদ মাছুম বলেন, বিষয়টি অবগত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা সিনিয়র মৎস্য অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে পত্র দেয়া হয়েছে।রিটার্নিং কর্মকর্তা সিনিয়র মৎস্য অফিসার শাহাদৎ হোসেন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামরুল ইসলাম জানান, পত্র প্রাপ্তির পর ওই প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।






































আপনার মতামত লিখুন :