Swadesh Chitro
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
banner

বিয়ে নিয়ে প্রতারণা, মা-বাবাসহ বর ২ দিন ধরে কনের বাড়িতে বন্দী


FavIcon
নীলফামারী,প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: নভেম্বর ২২, ২০২১, ১১:০৮ পিএম
বিয়ে নিয়ে প্রতারণা, মা-বাবাসহ বর ২ দিন ধরে কনের বাড়িতে বন্দী
বিয়ে নিয়ে প্রতারণা, মা-বাবাসহ বর ২ দিন ধরে কনের বাড়িতে বন্দী

বিয়ে ঠিক করে যৌতুকের টাকায় সরকারি চাকরি নেয়ার পর অন্য মেয়েকে (প্রেমিকা) বিয়ে। এমন প্রতারণার দায়ে আটক হয়ে কনের বাড়িতে বন্দী মা-বাবাসহ সেই বর। যৌতুকের টাকা ফেরত ও ক্ষতিপূরণ দিয়ে স্বামীকে উদ্ধার করতে আসার কথা দিয়েও দুই দিন ধরে লাপাত্তা বউ ও আত্মীয়-স্বজন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড কয়া মিস্ত্রীপাড়ায়।সংশ্লিষ্ট বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। বার বার নক করার পর দরজা খুলতেই দেখা গেল মেঝেতে প্লাস্টিকের পাটিতে বসে আছেন তিনজন। এরা বাবা, মা আর ছেলে। তাদের ঘিরে খাটে ও চেয়ারে বসা আরো পাঁচজন, তারা মেয়েপক্ষের লোক।ঘরে উপস্থিত মেয়ের বাবা জানান, সৈয়দপুরের পার্শ্ববর্তী দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার চম্পাতলী মাস্টারপাড়া এলাকার অমূল্য চন্দ্র রায়ের ছেলে নিতাই চন্দ্র রায়ের (২৩) সাথে তার মেয়ের আশীর্বাদ ও বিয়ে রেজিস্ট্রি হয় প্রায় এক বছর আগে। সরকারি চাকরিতে টাকা লাগবে বলে বরের বাবা যৌতুক হিসেবে কনের বাবার কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা নেন। ছেলে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড ডিফেন্সে ফায়ার ফাইটার হিসেবে যোগদানও করেছে।একারণে মেয়েকে বিদায় দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে পন্ডিত ডেকে বিদায়ের দিন-তারিখ ও লগ্ন ঠিক করা হয় কয়েকদিন আগে। কিন্তু ঠিক আগের দিন গত শনিবার সন্ধ্যায় কনের বাবার মোবাইলে ফোন করে বলা হয়, ছেলে প্রতারক। সে এক সপ্তাহ আগে লালমনিরহাটে তার পছন্দের মেয়েকে কোর্টে বিয়ে করেছে। এই কথা শুনে মুহূর্তে বিয়ের বাড়ির পরিবেশ পাল্টে যায়। কনের বাবাসহ আত্মীয়-স্বজন যান বরের বাড়িতে। সেখানে বিয়ের সত্যতা মেলে। এমতাবস্থায় কনের লোকজন বরকে জোর করে তুলে নিয়ে আসেন কনের বাড়িতে। পরে বরের বাবা-মা আসেন সেখানে। তারা যৌতুকের টাকাসহ ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকার করেন। কিন্তু দুই দিন পেরিয়ে গেলেও টাকা ম্যানেজ করতে না পারায় তাদেরকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানালে নিজেদের সম্মানহানীর পাশাপাশি ছেলে ও ছেলের বাবার সরকারি চাকরির সমস্যা হবে তাই আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।কনের পরিবারের অভিযোগ, বরের পরিবারের সকল শর্ত মেনে আমরা বিয়ে এবং বিদায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। খুব কষ্ট করে বরের বাবার হাতে ১১ লাখ টাকা তুলে দেয়া হয়েছে। আমাদের মান-সম্মান এবং মেয়ের ভবিষ্যত সবই শেষ করে দিল এমন প্রতারণা করে। তবুও আমরা শুধু অর্থ ফেরত চাই। কিন্তু ছেলেটা যাকে বিয়ে করেছে সে আসছে বলে সময়ক্ষেপণ করে চলেছে।ছেলের বাবা অমূল্য চন্দ্র রায় বলেন, তিনি লালমনিরহাটে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন অধিভুক্ত মশলা উন্নয়ন ইন্সটিটিউটে কর্মরত। ছেলে ও স্ত্রী দীর্ঘদিন সেখানেই ছিল। এখন গ্রামের বাড়িতে থাকে। তার দাবি, ছেলের সম্পর্ক বিষয়ে তিনি জানতেন না। বিয়ের বিষয়েও জানতেন না।ছেলে নিতাই চন্দ্র রায় বলেন, ফায়ার ফাইটার পদে মুন্সিগঞ্জের কমলহাটে কর্মরত আছি। লালমনিরহাটের আদিতমারীর হাজিগঞ্জের প্রমিতা রানীর সাথে এমনি মোবাইলে সম্পর্ক ছিল। কিন্তু লালমনিরহাট থেকে আসার পর আর যোগাযোগ হয়নি। হঠাৎ কয়েকদিন থেকে মোবাইলে কথা হয়। আর গত ১৪ নভেম্বর ঢাকার মিরপুর অফিসে অফিসিয়াল কাজে অবস্থানকালে সে সেখানে উপস্থিত হলে পরিস্থিতির কারণে তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হই।বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার বাবুল হোসেন বলেন, বিষয়টা তারা পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছে তাই আমরা হস্তক্ষেপ করিনি। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) খায়রুল আনাম জানান, এমন কোনো ঘটনা জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।

 

Banner
Side banner

সারাদেশ বিভাগের আরো খবর

Small Banner
Side banner