Swadesh Chitro
  • ঢাকা সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
banner

যশোরে টাকা আসার আগেই নামমাত্র কাজ দেখিয়ে ৩ লাখ টাকার প্রকল্প বাগানোর চেষ্টা!


FavIcon
মোঃ নজরুল ইসলাম,(নিজস্ব প্রতিবেদক)যশোর:
প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
যশোরে টাকা আসার আগেই নামমাত্র কাজ দেখিয়ে ৩ লাখ টাকার প্রকল্প বাগানোর চেষ্টা!
যশোরে টাকা আসার আগেই নামমাত্র কাজ দেখিয়ে ৩ লাখ টাকার প্রকল্প বাগানোর চেষ্টা!

যশোরে টাকা আসার আগেই নামমাত্র কাজ দেখিয়ে ৩ লাখ টাকার প্রকল্প বাগানোর চেষ্টা। যশোর সদর উপজেলার হাশিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কারের নামে বরাদ্দকৃত তিন লাখ টাকার প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র প্রকল্পের সভাপতিকে অন্ধকারে রেখে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে পুরো টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। প্রকল্পের অর্থ ছাড় হওয়ার আগেই রাতের আঁধারে স্কুল মাঠে কয়েকটি গাড়ি মাটি ফেলে সেটিকে শতাধিক গাড়ি মাটি ফেলা হয়েছে বলে দাবি করছে সংশ্লিষ্ট চক্র। শুধু তাই নয়, মাটির দামও বাজারমূল্যের প্রায় দ্বিগুণ দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরির অভিযোগ উঠেছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েকদিন আগে বন্ধ থাকা বিদ্যালয়ের মাঠে হঠাৎ করেই কয়েকটি ট্রাক মাটি ফেলা হয়। কেন এবং কার নির্দেশে এই মাটি ফেলা হয়েছে—তা নিয়ে শুরু হয় এলাকাজুড়ে আলোচনা। পরে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। একটি পক্ষ দাবি করছে, তারাই ওই মাটি ফেলেছে এবং সেখানে প্রায় ১০০ গাড়ি মাটি দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে তারা বলছে, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে এবং সেই টাকারই আগে থেকেই নাকি মাটি ফেলা হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা মাটির বিল-ভাউচার নিয়েও ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে প্রকল্পের কাগজপত্র অনুযায়ী এ প্রকল্পের সভাপতি ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য রিক্তা বেগম।কিন্তু তিনি জানান, প্রকল্পের বিষয়ে তাকে কিছুই জানানো হয়নি এবং কোনো নথিতে তিনি স্বাক্ষর বা সিল দেননি। এমনকি প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ বা কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যরাও জানিয়েছেন, রাতের আঁধারে কারা মাঠে মাটি ফেলছে সে বিষয়ে তাদেরও কোনো ধারণা নেই।
প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য রিক্তা বেগম বলেন, আমি এতদিন কিছুই জানতাম না। হঠাৎ করে ইউপি সদস্য মারুফ হাসান দাবি করছেন একটি প্রকল্প এসেছে এবং সেখানে তাকে স্বাক্ষর করার জন্য চাপ দিচ্ছেন।তিনি আরও দাবি করেন, ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান লিটন ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরামুল ইসলামও এ ঘটনায় জড়িত। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান লিটন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। তবে, খোঁজখবর নিচ্ছি।এ বিষয়ে ইছালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ইয়ারুল ইসলাম বলেন, মাঠ সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প এসেছে, যার সভাপতি ইউপি সদস্য রিক্তা বেগম। এখানে অন্য কারও টাকা উত্তোলনের সুযোগ নেই। যদি কেউ অনিয়ম করে থাকে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হাশিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদুর রহমানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নামে ভুয়া বিল দেখিয়ে সরকারি অর্থ লোপাটের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Banner
Side banner

অপরাধ বিভাগের আরো খবর

Small Banner
Side banner