২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতনের পর দামেস্কে সিরিয়ার কুখ্যাত গোয়েন্দাপ্রধান এবং জেনারেল সিকিউরিটি ডিরেক্টরেটের প্রধান হিসসাম লুকিয়ার (যিনি দ্য স্পাইডার নামে পরিচিত) পরিত্যক্ত একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে বিবিসি নিউজ।
ওই অ্যাপার্টমেন্টে দামি পোশাক, স্বর্ণপদক এবং আসাদের সঙ্গে লুকিয়ার বিভিন্ন ছবি ও করমর্দনের দৃশ্য পাওয়া যায়। এর মাঝেই একটি সাদামাটা নোটবুকে ১৫৫টি হাতের লেখা নাম ও ফোন নম্বর খুঁজে পান সাংবাদিকরা।
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া এই গোয়েন্দাপ্রধান সিরিয়ায় ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন এবং ২০১৫ সালে হোমসে শিশুদের প্রাণ কেড়ে নেওয়া তথাকথিত ঈদ গণহত্যার মতো নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
আসাদের পতনের পর তিনি রাতারাতি উধাও হয়ে যান, যার ফলে সিরিয়ার সাধারণ মানুষ ও নিখোঁজদের পরিবার বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে এবং সিরিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
লুকিয়াকে খুঁজে বের করতে লন্ডনে ফিরে নোটবুকের নম্বরগুলো যাচাই করা শুরু করেন সাংবাদিকরা। সামরিক কমান্ডার ও আত্মীয়দের কাছে ফোন করে সাড়া না পেয়ে একজন রিপোর্টার সিরিয়ায় গিয়ে নোটবুকে থাকা চিকিৎসকদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে খোঁজ নিতে শুরু করেন। এরপর এক অ্যাপার্টমেন্টের প্রহরীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুকিয়ার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী মাহমুদের সন্ধান মেলে।

মাহমুদ জানান, সরকার পতনের আগের রাতে ক্যাপিটাল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে পালিয়ে গেছেন লুকিয়া। পরবর্তীতে লেবাননের সূত্র ও অ্যাপার্টমেন্টে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার পুরস্কার এবং নববর্ষের কার্ডের সূত্র ধরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, লুকিয়া ভিন্ন নামে রাশিয়ান পাসপোর্টে লেবানন হয়ে মস্কোয় পালিয়ে গেছেন।
তদন্তকারীরা অবশেষে লুকিয়ার একটি রাশিয়ান ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন এবং তার পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে কল করে নিশ্চিত হন যে লাইনটিতে লুকিয়াই কথা বলছেন। পরবর্তীতে বিবিসি সরাসরি ওই নম্বরে কল করলে লুকিয়া ফোন ধরে ভয়ের সুরে জানান যে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে কথা বলার মতো ঝুঁকিতে নেই এবং কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন না। পরবর্তীতে দ্বিতীয় আরেকটি সিরিয়ান নম্বর এবং মেসেজিং অ্যাপের সূত্র ধরে বিবিসি নিশ্চিত হয় যে হিসসাম লুকিয়া বর্তমানে মস্কোর উপকণ্ঠে দুটি ভিন্ন উপশহরে লুকিয়ে রয়েছেন।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাকে প্রত্যার্পণ বা কোনো মন্তব্য না পাওয়ায়, হোমস শহরের নিহত শিশু ওয়ায়েলের বাবা মোহাম্মদের মতো যারা ন্যায়বিচারের আশায় আছেন, তাদের জন্য এই আবিষ্কার নতুন হতাশার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি।






































আপনার মতামত লিখুন :