Swadesh Chitro
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
banner

নারী সংকটে চীন, বিয়ে করতে গিয়ে নানা বিপাকে পড়ছে পুরুষেরা


FavIcon
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
নারী সংকটে চীন, বিয়ে করতে গিয়ে নানা বিপাকে পড়ছে পুরুষেরা
চীনে নারীর চেয়ে বাড়ছে পুরুষের সংখ্যা

চীনে দীর্ঘদিনের লিঙ্গবৈষম্য ও জনসংখ্যা সংকটের সুযোগ নিয়ে গড়ে ওঠা কিছু ঘটকালি সংস্থার প্রতারণায় সর্বস্ব হারাচ্ছেন পাত্র খোঁজা নিঃসঙ্গ পুরুষেরা। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশেষ করে গুইঝৌ প্রদেশের গুইয়াং শহরকে কেন্দ্র করে দ্রুত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এই ‘ফ্ল্যাশ ম্যারেজ’ প্রতারণা এখন দেশজুড়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক সন্তানের নীতি ও ছেলেসন্তানের প্রতি পক্ষপাতিত্বের কারণে চীনে বর্তমানে নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি বেশি। ফলে গ্রামীণ ও ছোট শহরের ৩০ পেরোনো পুরুষদের জন্য জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে গুইয়াং শহরের কিছু ঘটকালি এজেন্সি তিন দিনে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ পুরুষদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও পণ দাবি করে প্রতারণা চালিয়ে আসছে।

প্রতারণার শিকার ৩৭ বছর বয়সী ওয়াং ঝুয়াং জানান, পূর্ণাঙ্গ ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের আশ্বাস পেয়ে তিনি একটি সংস্থাকে চার থেকে পাঁচ লাখ ইউয়ান প্রদান করেন। বিয়ের কয়েক মাস পরেই জানা যায়, তার স্ত্রী তিন সন্তানের মা, একাধিকবার বিবাহিত, গুরুতর ঋণে জর্জরিত এবং যৌনব্যাধিতে আক্রান্ত। প্রতারণার বিষয়টি উন্মোচিত হওয়ার পর ঐ সংস্থা কার্যালয় বন্ধ করে গা ঢাকা দেয়।

আরেক ভুক্তভোগী ৫৯ বছর বয়সী শু রুলিন জানান, তিনি তার ছেলের জন্য প্রায় পাঁচ লাখ ইউয়ান খরচ করে বিয়ের সাত দিনের মাথায় জানতে পারেন কনে পালিয়ে গেছে। ঘটনার পর পুলিশ ঐ গৃহবধূ ও এজেন্সির মালিকদের গ্রেপ্তার করে। 

চীনের সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ঘটকালি সংক্রান্ত অপরাধে ১ হাজার ৫৪৬ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সম্প্রতি পাঁচটি সরকারি সংস্থা যৌথভাবে দেশব্যাপী অভিযান শুরু করেছে।

নাসচিংয়ের আইনজীবী ফ্যান বিংহে জানান, বিবাহবিষয়ক আইনি জটিলতা ও প্রতারকদের কৌশলগত যুক্তির কারণে ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরত পাওয়া এবং অপরাধ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বহু নিঃসঙ্গ পুরুষ এখন সর্বস্ব হারিয়ে ন্যায়বিচারের আশায় শহরটিতে দিন কাটাচ্ছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে অন্যদের সতর্ক করছেন। সূত্র: বিবিসি

Banner
Side banner
Side banner