কুষ্টিয়া জেলা ও শহরবাসীর দীর্ঘদিনের আরেকটি লালিত স্বপ্ন এবার বাস্তবায়িত হতে চলেছে। কুষ্টিয়ার প্রধান নদী গড়াই ও পদ্মার তীর ঘেঁষে নির্মাণ হতে যাচ্ছে একটি দীর্ঘ ও প্রশস্ত সংযোগ সড়ক, যা কুষ্টিয়া শহরের যানজট নিরসনসহ অবঠামো ও সৌন্দর্যের আমূল পরিবর্তন ঘটাবে। এই প্রস্তাবিত সড়কটি মূলত কুষ্টিয়া শহরের জন্য একটি নতুন ও আধুনিক ‘বাইপাস সড়ক’ হিসেবে কাজ করবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে প্রকল্প এলাকার বাস্তব অবস্থা পরিদর্শনে যান সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা। পরিদর্শনকালে কুষ্টিয়ার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলোর সংযোগ ও বাঁধ সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখেন তারা।
জানা যায়, কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর সৈয়দ মাছ উদ রুমি ব্রিজের নিচ দিয়ে এই প্রশস্ত রাস্তার কাজ শুরু হবে। এরপর এটি যথাক্রমে-জেলা পরিষদ পার্ক, বড় বাজার ও থানাপাড়ার নিচ দিয়ে সোজা হরিপুর ব্রিজকে সংযুক্ত করবে। পরবর্তীতে হরিপুর ব্রিজ থেকে সড়কটি কমলাপুর হয়ে রানাখড়িয়ার দিকে অগ্রসর হবে এবং সর্বশেষ ভেড়ামারা রোডে গিয়ে মিলিত হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গড়াই ও পদ্মা নদীর উভয় পাড়ের নদীকেন্দ্রিক এই সড়কটির নির্মাণ সম্পন্ন হলে কুষ্টিয়া শহরের সামগ্রিক অবকাঠামোতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এটি কুষ্টিয়াকে আরও আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন একটি শহর হিসেবে গড়ে তুলতে অনন্য ভূমিকা রাখবে। উক্ত পরিদর্শনে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে উপস্থিত ছিলেন বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও টেকনিক্যাল এক্সপার্ট।
তাদের মধ্যে রয়েছেন-গ্রেটার কুষ্টিয়া রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের পিডি ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান, সাবেক সিনিয়র সচিব খন্দকার কবিরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উপজেলা প্রকৌশলী এবং এলজিইডির অন্যান্য কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার জানান, এই সড়কটি “গ্রেটার কুষ্টিয়া রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট”-এর অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে খুব দ্রুতই এই কাদা-মাটি ও অবহেলিত মাটির রাস্তাটিকে আধুনিক পিচঢালা ও প্রশস্ত সড়কে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। সড়কটি আলোর মুখ দেখলে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থারই উন্নতি হবে না, বরং নদীর তীরবর্তী পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। শরিফ মাহমুদ, কুষ্টিয়া





































আপনার মতামত লিখুন :